গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের তুলনায় পুরুষদের মস্তিষ্ক দ্রুত সংকুচিত হতে থাকে। ৪ হাজারের বেশি সুস্থ ব্যক্তির মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পুরুষদের মস্তিষ্ক টিস্যু ক্ষয় বা আয়তন হ্রাস দ্রুত ঘটছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্ক সংকুচিত হযতে থাকে। তবে অ্যালজাইমার্স রোগীদের ক্ষেত্রে এটি আরও গুরুতর হয়। মজার বিষয় হলো, এই গবেষণা অনুযায়ী নারীদের মস্তিষ্কের আয়তন হ্রাসের হার পুরুষদের তুলনায় কম হতে পারে। এই তথ্য বেশ উল্লেখযোগ্য, কারণ নারীদের মধ্যে অ্যালজাইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি।
নরওয়ের অসলো ইউনিভার্সিটির একজন নিউরোসায়েন্টিস্ট এবং গবেষণার সহ-লেখক অ্যান রেভন্ডাল বলেন, ‘যদি নারীদের মস্তিষ্কের ক্ষয় বেশি হতো, তবে তা তাদের অ্যালজাইমার্সের উচ্চ প্রবণতার একটি ব্যাখ্যা হতে পারত।’
গবেষকরা ১৭ থেকে ৯৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের ১২,০০০-এরও বেশি মস্তিষ্কের স্ক্যান বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে প্রত্যেকের কমপক্ষে তিন বছরের ব্যবধানে নেওয়া দুটি এমআরআই স্ক্যান অন্তর্ভুক্ত ছিল। লিঙ্গ-ভিত্তিক মস্তিষ্কের আকারের পার্থক্য বিবেচনা করার পরেও দেখা যায়, বয়স্ক পুরুষদের মস্তিষ্কের কর্টেক্সের একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয় দেখা গেছে।
অন্যদিকে, নারীদের মস্তিষ্কে কম ক্ষয় দেখা গেছে, যেখানে কম অঞ্চলে পরিবর্তন এসেছে এবং সময়ের সাথে সাথে কর্টিকেল পুরুত্বে কম পরিবর্তন হয়েছে। গবেষণাটি মস্তিষ্কের বার্ধক্যে লিঙ্গ-ভিত্তিক পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করলেও গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ফলাফল নিশ্চিত করতে এবং এর কারণ বুঝতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।
মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণায় লিঙ্গ-ভিত্তিক পক্ষপাত বিদ্যমান, যেখানে খুব কম গবেষণায়ই লিঙ্গকে একটি মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিউরোসায়েন্স এবং সাইকিয়াট্রির মাত্র ৫% গবেষণায় লিঙ্গের প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছিল, যা পুরুষ ও নারীদের মস্তিষ্কের ক্ষয়ের পার্থক্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
পূর্বে পরিচালিত গবেষণাগুলোও পরস্পরবিরোধী ফলাফল দিয়েছে। কিছু গবেষণায় পুরুষদের মধ্যে এবং অন্যগুলিতে নারীদের মধ্যে মস্তিষ্কের বেশি ক্ষয় নির্দেশ করা হয়েছে। অসলো ইউনিভার্সিটির নতুন এই গবেষণাটি সেই বিতর্ক নিরসনের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল।