হামে আক্রান্ত শিশুদের ৭৪ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি। আর ১৪ শতাংশ শিশু পুরো ডোজ সম্পন্ন করেনি। গত ২ বছরে টিকার ঘাটতিসহ শিশুদের অপুষ্টির কারণে বেড়েছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। গবেষকেরা বলছেন, আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে না নিয়ে অন্যদের সংস্পর্শে আসায় পরিস্থিতি খারাপ হয়।
মঙ্গলবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন। সেমিনারে বক্তারা বলেন, ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে।
‘ইনসাইট ফ্রম রিসেন্ট মিসেলস আউটব্রেক ইন বাংলাদেশ-স্ট্রেনদেনিং সায়েন্টিফিক রেসপন্স এন্ড ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস’ নামের সেমিনার আয়োজন করে সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজিস্টস।
এতে অংশ নেন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, রোগতত্ববিদ ও গবেষকসহ বিশিষ্টজনেরা। পঞ্চগড়, লালমনিরহাট ও রাঙামাটি ছাড়া ৬১ জেলায় ছড়িয়েছে হাম। এরই মধ্যে প্রাণজানি ছাড়িয়েছে ৩শ, আক্রান্ত প্রায় অর্ধ লক্ষ। কী কারণে এমন পরিস্থিতি, তা উঠে আসে আলোচনায়।
বিএমইউ’এর শিশু বিভাগের অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় কুমার দে বলেন, ‘আমাদের টিকাদানে গ্যাপ ছিল। তারপর আমাদের মিস ইনফরমেশন ছিল।’
ভাইরোলজিস্ট ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলেন, ‘আগে যেমন মিডিয়ার মাধ্যমে টিকাদান কর্মসূচিগুলো কন্টিনিউ হতো। এগুলো যদি নিয়মিত হতো তাহলে আমাদের এই অবস্থা দেখতে হতো না।’
শিশুদের হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে, আর দ্বিতীয় ডোজ পায় ১৫ মাসে। ৯ মাসের কম বয়সীদের সুরক্ষা মায়ের কাছ থেকে পাওয়ার কথা। তবে, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের কম। কেন এ বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, এ নিয়ে নতুন গবেষণার তাগিদও দেন বিশেষজ্ঞরা।
আইসিডিডিআরবি’এর গবেষক ও বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী বলেন, ‘এটা দেখা উচিৎ কী আক্রন্তদের এন্টিবডি কী ধরনের হয়, কতদিন থাকে। আরেকটি বিষয় হলো ম্যাচুরিটি অব অ্যান্টবডি, যে যত ম্যালনিস তার ম্যাচুরিটি তত কম, এগুলোও দেখতে হবে। এগুলো কতদিন টিকে থাকে সেগুলো নিয়েও দেখতে হবে এবং সবটুকু করা উচিৎ।’
ভবিষ্যত সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাইক্রোবায়োলজিস্ট, চিকিৎসক, গবেষকসহ সবাই একসাথে কাজ করার উপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।



