ব্যায়ামেই বাড়তে পারে স্মৃতিশক্তি, বলছে নতুন গবেষণা

স্মৃতিশক্তি অনেক সময়ই যেন ধোঁয়াশার মতো। একটু আগে যে তথ্যটি মনে ছিল, মুহূর্তেই তা হারিয়ে যায়। পরীক্ষার প্রস্তুতি, চাকরির সাক্ষাৎকার কিংবা বাজারের তালিকা। সব ক্ষেত্রেই এই সমস্যায় পড়তে হয়। তবে নতুন গবেষণা বলছে, খুব সহজ একটি অভ্যাসেই মিলতে পারে এর সমাধান। আর তা হলো, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম।

গবেষকদের মতে, অল্প সময়ের ব্যায়ামও মস্তিষ্কে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটায়। এটি স্মৃতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে সহায়ক। কয়েক মিনিট সাইক্লিং বা দ্রুত হাঁটাহাঁটি করলেই মস্তিষ্কে তৈরি হয় একধরনের ‘তরঙ্গ’। যেটি আমাদের তথ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কে কী ঘটে?

গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক ব্যায়ামের পর মস্তিষ্কে নিউরনের মধ্যে ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক সংকেতের আদান-প্রদান বেড়ে যায়। এই সংকেতগুলোকে বলা হয় ‘ব্রেন রিপলস’ বা মস্তিষ্কীয় তরঙ্গ। এগুলো স্মৃতি গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে মস্তিষ্কের একটি অংশ ‘হিপোক্যাম্পাস’। যা স্মৃতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত, ব্যায়ামের ফলে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অংশটি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম এর কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। এমনকি এর আকারও কিছুটা বৃদ্ধি করতে পারে।

কখন ব্যায়াম করবেন?

গবেষণায় আরও জানা গেছে, ব্যায়ামের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কিছু শেখার প্রায় চার ঘণ্টা পর হাঁটতে বের হলে তা স্মৃতি ধরে রাখতে বেশি সহায়ক হয়। তবে শেখার পরপরই ব্যায়াম করলেও কিছু উপকার পাওয়া যায়। অন্যদিকে শুধু স্ট্রেচিং বা হালকা টানটান ব্যায়াম তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না।

স্বল্প সময়েই মিলতে পারে উপকার

গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে সরাসরি ইলেকট্রোড বসিয়ে কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অল্প সময়ের ব্যায়ামের পরই মস্তিষ্কে এই ‘রিপলস’ বা তরঙ্গ বেড়ে যায়।

গবেষকদের মতে, এই সমন্বিত কার্যকলাপই স্মৃতি সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করলেও অল্প সময়ের কার্যকলাপেই উপকার পাওয়া সম্ভব।

শুধু স্মৃতি নয়, আরও উপকার

ব্যায়াম শুধু স্মৃতিশক্তিই বাড়ায় না, এটি মনোযোগও উন্নত করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একবার ব্যায়াম করলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত মনোযোগ বাড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরে ‘ডোপামিন’ নামের হরমোনের মাত্রাও বেড়ে যায়। যা ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে।

আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, যত বেশি নিয়মিত ব্যায়াম করা হয় এবং শরীর যত বেশি ফিট থাকে। এতে মস্তিষ্কও উপকৃত হয়। কারণ এতে শরীরে ‘বিডিএনএফ’ (ব্রেইন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর) নামের একটি প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ে। যা নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করে।

কেন নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত ব্যায়াম করলে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও ভালো থাকে। এটি বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা জ্ঞানগত অবনতি ধীর করতে সহায়ক হতে পারে।

তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও যদি কিছুটা সময় বের করে নেওয়া যায় ‘হাঁটা, সাইক্লিং বা হালকা দৌড়’। তবে তা শুধু শরীর নয়, স্মৃতিশক্তির জন্যও বড় বিনিয়োগ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি