মানসিক চাপ কমাতে নেতিবাচক ভাবনা দূর করবেন যেভাবে

নেতিবাচক ভাবনা থেকে একটা সময় দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ারও অন্যতম কারণ নেতিবাচক ভাবনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে নানা কিছুর প্রভাবে অনেকের নেতিবাচক ভাবনা আরও বাড়ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে এর কারণ অনুসন্ধান করা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

আত্ম সচেতনতা: মানসিক প্রশান্তির জন্য নেতিবাচক ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে হবে। এ জন্য প্রথমেই আত্ম সচেতনতার দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সবসময় কেবল ইতিবাচক ঘটনা ঘটবে এমন নয়, নেতিবাচক ঘটনাও থাকবে। তবে পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকলে নেতিবাচক বিষয়গুলো সহজে এড়ানো সম্ভব।

নিজের সমালোচনা গ্রহণ করা: নিজের সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। কেউ সমালোচনা করলে বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। নিজের ভুল খুঁজে তা সমাধানের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বরং চাপমুক্ত লাগবে।

ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: নিজের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এড়াতে হবে। ইতিবাচক ধ্যান-ধারণা পোষণের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। প্রতিদিন এমন দুই তিনটি কাজ খুঁজে বের করুন, যা খুব ভালোভাবে আপনি সম্পন্ন করেছেন এবং এরপর এসব কাজের জন্য নিজেকে বাহবা দিন। এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মনঃসংযোগ চর্চা: মানসিক চাপের সময় নিজেকে সবকিছু থেকে কিছুক্ষণের জন্য হলেও দূরে সরিয়ে মনঃসংযোগের চর্চা করতে পারেন। কোনো ইতিবাচক ঘটনা, স্থান, বিষয় বা দৃশ্য কল্পনা করে সেটিতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করতে পারেন। অনেকে মেডিটেশন বা ধ্যানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সম্ভব হলে নিয়মিত ধ্যান করতে পারেন। 

যুক্তি দিয়ে ভাবা: কোনো বিষয় থেকে দূরে পালানো কোনো সমাধান নয়। এতে ইতিবাচক না হয়ে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব বাড়তে পারে। তাই নেতিবাচক চিন্তা মাথায় আসলে, তা জোর করে দূরে না সরিয়ে ধীরে ধীরে যুক্তি দিয়ে ভেবে বিষয়টির সমাধান করতে পারেন। যুক্তি সাধারণত নিজের নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে। 

বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। সাধারণত বিশেষজ্ঞরা মানুষের সামনে তাদের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে সহায়তা করে। যা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ভেরিওয়েল মাইন্ড