ঠান্ডার রাত মানেই শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই পা গরম রাখতে মোজা পরে শোয়ার চেষ্টা করেন। বিশেষ করে শীতের এমন আর্দ্র, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কম্বলের তলায় থাকা যেন স্বাভাবিক অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে। হাতে হিটপ্যাড বা গরম পানি ব্যাগ থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী আরাম দেয় না। তাই অনেকে মোজা পরে শোয়ার মাধ্যমে আরাম খুঁজেন। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, রাতভর মোজা পরে ঘুমোনো শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়। দীর্ঘমেয়াদি এই অভ্যাস কিছু শারীরিক সমস্যা ডেকে আনতে পারে।
রক্ত সঞ্চালন
শীতের রাতে উলের শক্তপোক্ত মোজা পরে পা গরম রাখলে তা স্বাভাবিকভাবেই রক্ত চলাচল কমিয়ে দেয়। সারাদিনে যে ভাবে পা ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে মোজা পরা হয়েছে, রাতে সেই মোজা পরে শুতে গেলে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় রক্ত চলাচল ঠিক না থাকলে পায়ে ব্যথা, স্ফীতি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
ত্বকে সংক্রমণ
পায়ে ঘামের সঙ্গে দীর্ঘসময় মোজা থাকলে ত্বক ফাঁদে পড়ে। রাতেও মোজা পরা থাকলে হাওয়া চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে পায়ের ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পায়ের পাতা দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বেশি থাকে, কারণ তাদের ত্বক এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে নরম ও সংবেদনশীল।
শরীরের তাপমাত্রা বাড়া
মোজা পরলে পায়ের তাপমাত্রা বাড়ে, যা সাময়িক আরাম দেয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি সময়ে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। অনেক সময় এমন উষ্ণতা হঠাৎ ঘাম বা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে হাইপারথার্মিয়া বা শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ঘুমের ব্যাঘাত
মোজা পরা থাকলেও পায়ের রক্ত সঞ্চালন ঠিকমত না হলে ঘুম সহজে আসে না। পায়ে ব্যথা, স্ফীতি বা অস্বস্তি শুরু হলে পুরো শরীরকেই প্রভাবিত করে। ফলে রাতে ঘুম ভাঙা, ঘুমের মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
পরিচ্ছন্নতা বজায় না থাকা
সারাদিন ঠান্ডা থেকে বাঁচতে মোজা পরা থাকলেও রাতেও যদি তা পরে শোয়া হয়, ত্বকের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পায়ের ত্বকে চর্মরোগ বা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ফলে পরিচ্ছন্নতা কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকও দুর্বল হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা সবসময় সতর্ক করে বলেন, শীতে পা গরম রাখা প্রয়োজন হলেও তা হতে হবে সঠিক পদ্ধতিতে। হালকা মোজা পরা যেতে পারে, তবে ঘুমানোর সময় মোজা খুলে বা হালকা করে রাখা ভালো। বিকল্প হিসেবে কম্বল বা হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে শরীরও গরম থাকে, আর রক্ত চলাচলও ঠিক থাকে। শিশুরা বা বয়স্করা বিশেষ সতর্ক থাকবেন।
শীতে মোজা পরা আর শীত ঠেকানো উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাতভর মোজা পরে ঘুমানো স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পা গরম রাখুন, কিন্তু শরীরের স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ও ত্বকের স্বাস্থ্যের কথা ভুলবেন না। শীতের রাতেও সচেতন থাকলে আরামও থাকবে, বিপদও দূরে থাকবে।
তথ্যসূত্র: টাইমস নাও