মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকে সন্তান, কী করবেন?

অনলাইন এডুকেশনের জামানায় এখন বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন মোবাইল। কিন্তু ডিভাইসটি যে শুধুই পড়া-লেখার কাজে ব্যবহার করছে সে এমনটি কিন্তু একদমই নয়। কারও কারও আবার রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্টও। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শিশু কী দেখছে। সেখানে শেখার যেমন অনেক কিছু আছে, তেমনি কুরুচির কনটেন্টেরও অভাব নেই। তাই সন্তানকে এসব থেকে দূরে রাখতে বাবা-মায়ের অতিরিক্ত নজরদারি চালাতেই হবে।

যেহেতু সময়ের প্রয়োজনে আপনি নিজেও ডিভাইস ছাড়তে পারছেন না। তাই তাকে ব্যবহার বা মোবাইল ধরা থেকে বিরত রাখাও কঠিন কাজ। তাই আপনার শিশুকে যদি ডিজিটাল সিটিজেনশিপের শিক্ষা ছোট থেকেই দিতে পারেন তবে, সামনে আপনার জন্য ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে। ছোট থেকে সেও শিখে যাবে প্রযুক্তির নানা ব্যবহার, সেই সঙ্গে তার ঝুড়িতে যোগ হতে পারে কোন বড় অর্জন।

সন্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতায়াত থাকলে তাকে অন্যের প্রাইভেসিকে সম্মান জানাতে শেখান। সাইবার বুলি থেকে দূরে থাকার বিষয়টিও ভালোভাবে বুঝিয়ে দিন। সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি। তাই কোনো তথ্য যাচাই না করে তা ছড়িয়ে দিতে বারণ করুন সন্তানকে। পাশাপাশি কোন তথ্যসূত্র ভরসাযোগ্য, সেগুলিও বুঝিয়ে দিন।

সন্তানকে যেহেতু স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, তাই তার সোশ্যাল মিডিয়ার সময়কে নিয়ন্ত্রণ করুন। একদমই বন্ধ করতে যাবেন না, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তবে আপানি চাইলে খুব সহজে সন্তানের স্ক্রিন টাইম এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় বেঁধে দিতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাইভেসি সেটিংসের ব্যবহার তাদের শেখাতে হবে। এই ভাবে নিজের প্রোফাইলের ছবি থেকে শুরু করে কনটেন্ট অযাচিত লোকদের থেকে লুকিয়ে অনলাইন সেফটি মেনে চলতে পারবে।

অনলাইন হোক বা অফলাইন, অন্যদের প্রতি সন্তানকে সহানুভূতিশীল হতে শেখান। তাদের কোনো কথায় যেন অন্য কেউ কষ্ট না পায়, তা বোঝানো জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করুন। ফিশিং স্ক্যামসহ অন্যান্য অনলাইন ঝুঁকি সম্বন্ধে সচেতন করুন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচরণ করে কেবল সময় নষ্ট করতে বারণ করুন। তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে নিজের সৃজনশীলতা, আগ্রহ এবং প্রতিভা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে শেখান।

সন্তানের প্রাইভেসিকে অবশ্যই সম্মান জানাবেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার সন্তানের কাজকর্মের দিকেও নজর রাখতে হবে।