ভূমিকম্পের সময় যে কাজগুলো করবেন না

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এতে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা জরুরি।

আর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংস্থাটি ভূমিকম্প মোকাবিলায় সব পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি ও সচেতনতা তৈরির পরামর্শ দিয়েছে।

আতঙ্কের মধ্যে স্থির থাকুন

ভূমিকম্প শুরু হলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে স্থির থাকা জরুরি। অনেকেই ঘরের বাইরে ছুটে যান বা প্যানিক করেন। এটা সবচেয়ে বড় ভুল। কম্পনের সময় শান্ত থাকুন এবং চারপাশের সম্ভাব্য বিপদ বুঝে এগোতে হবে।

নিরাপদ স্থান খুঁজুন

ঘরে থাকলে সবসময় নিরাপদ স্থান খুঁজে নিন। সাধারণত ভারী আসবাবপত্রের নিচে, টেবিল বা ডেস্কের নিচে ঢুকে থাকা নিরাপদ। জানালা বা দরজার কাছে দাঁড়াবেন না। কারণ কাচ ভেঙে আঘাত করতে পারে। যেকোনো ধরনের তাক থেকে দূরে থাকুন, যাতে উপরের জিনিসপত্র পড়ে আঘাত না লাগে।

বাইরে গেলেও সতর্ক থাকুন

যদি কম্পনের সময় বাইরে থাকেন, তবে খোলা জায়গায় যান। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা বিল্ডিংয়ের দেয়াল থেকে দূরে থাকুন। ফ্লাইওভার, ব্রিজ বা পুরনো কাঠামোর নিচে কখনো দাঁড়াবেন না।

লিফট ব্যবহার করবেন না

ভূমিকম্প চলাকালীন লিফট ব্যবহার করা বিপজ্জনক। লিফট আটকে যেতে পারে বা বিদ্যুতের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মাত্রাতিরিক্ত উচ্চতার স্থানেও সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

কম্পন শেষ হলেও সতর্ক থাকুন

কম্পন কয়েক ধাপে হতো পারে। তাই সাথে সাথে ঘরে ঢুকবেন না। বাইরে থেকে ঘরের ক্ষতি এবং সম্ভাব্য বিপদ যাচাই করুন। বৈদ্যুতিক তার, গ্যাসের নল, পানি লাইন, সবকিছু ঠিক আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে থেকে ভিতরে প্রবেশ করুন।

জরুরি কিট প্রস্তুত রাখুন

সব সময় একটি জরুরি কিট হাতে রাখুন। যাতে পানি, শুকনো খাবার, লাইট, ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সামগ্রী থাকে। কম্পনের সময় বাইরে বের হতে হলে এই কিট জীবনের সহায়ক।

সহায়তার জন্য প্রস্তুত থাকুন

কম্পনের পরে প্রতিবেশী, পরিবার বা স্থানীয় উদ্ধার টিমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। আহত বা সমস্যায় থাকা মানুষদের সাহায্য করুন। সামাজিক সচেতনতা এবং পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা এমন পরিস্থিতিতে বড় শক্তি।

ভূমিকম্প সংবেদনশীল দেশে এসব ছোট কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ জীবন বাঁচাতে পারে। আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করাই সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। মনে রাখবেন, নিরাপত্তা প্রথমে, আতঙ্ক পরে।