একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তাই এবার ভোটের ফলাফল গণনা কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। সাধারণত ভোট সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে। কিন্তু এবার একই দিনে দুটি ব্যালট থাকার কারণে ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভোট শেষ হলেও যে কেন্দ্রের ভেতরে ভোটার থাকবেন, সেই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে।
ভোট শেষ হওয়ার পর প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে লক করা হবে। এক কেন্দ্রের নারী ও পুরুষ ভোটকক্ষে আলাদা হলেও গণনার জন্য একটি নির্দিষ্ট কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই কক্ষে প্রতিটি প্রার্থীর একজন করে পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকতে পারেন। তাদের সামনে লক ও ব্যালট বাক্সের নম্বর মিলিয়ে খোলা হবে।
এরপর ব্যালট পেপারগুলো মেঝেতে রাখা হবে এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী কর্মকর্তারা গণনা শুরু করবেন। প্রথমে সংসদ নির্বাচনের সাদা ব্যালট এবং গণভোটের গোলাপি ব্যালট আলাদা করা হবে। যদি কোনো ব্যালট ছেঁড়া বা সিল ঠিক না থাকে, অথবা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকে, সেগুলো বাতিল গণ্য করা হবে।
প্রতীকভিত্তিক গণনা শেষে ভোট গণনার ফরমে সংক্ষেপে লেখা হয় প্রার্থীর নাম, ভোটের সংখ্যা, বাতিল ও বৈধ ভোটের সংখ্যা। রেজাল্ট শিটে শুধুমাত্র অংকে নয়, কথায়ও ভোটের সংখ্যা লেখা হয়। এতে কোনো প্রকার কাঁটাছেড়া বা পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট শিটে স্বাক্ষর করবেন। চূড়ান্ত রেজাল্টের সাতটি সেট প্রস্তুত হয়। একটি ভোটকেন্দ্রে নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়, দুইটি সিল করা ব্যালট বস্তার সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়, একটি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে থাকে এবং একটি নির্দিষ্ট খামে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়।
এভাবে সকল কেন্দ্র থেকে সব ফলাফল সংগ্রহ করে নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়। প্রার্থীদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক সেখানে উপস্থিত থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের কপি নিতে পারেন। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে ফলাফল স্বচ্ছ ও সঠিক হবে এবং কারচুপি বা রেজাল্ট পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।