১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটের ব্যালট কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রার্থীর এজেন্ট এবং নিরীক্ষক উপস্থিত থাকেন। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স লক করে গণনার জন্য প্রস্তুত করা হয়। কেন্দ্রে গণনার সময় প্রতিটি ব্যালট এবং রেজাল্ট শিট প্রার্থীর এজেন্টদের নজরে আসে।
কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল তৈরি হলে সেটি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল যাচাই করে রেজাল্ট শিটে সিল দেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারা তা স্ক্যান করে ইসির রেজাল্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আরএমএস) আপলোড করেন। ফলে কেন্দ্র থেকে আসা তথ্য ও আরএমএসের তথ্য একরূপ থাকে।
তবে ইতিহাসে দেখা গেছে, কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কিছু কেন্দ্রে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিত। ২০০১ সালের নির্বাচনে সংঘর্ষ ও অনিয়মের কারণে ১৩৭টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছিল। ২০২৪ সালে ময়মনসিংহে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও হামলার কারণে এক আসনের ভোট বাতিল করা হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে, যদি ওই কেন্দ্রের ভোট ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলে, পরে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হয়।
এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটও গণনায় যুক্ত হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট খোলার সময়ও প্রার্থীর এজেন্ট উপস্থিত থাকবেন। এই ব্যালটও কেন্দ্রভিত্তিক গণনার নিয়ম অনুযায়ী গণনা করা হবে এবং চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হবে।
চূড়ান্ত ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র থেকে ঘোষিত হবে। প্রার্থীরা সেখানে উপস্থিত থেকে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। যদি কোনো প্রার্থী ফলাফলের সঙ্গে আপত্তি রাখেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনঃগণনার আবেদন করতে পারেন। কমিশন অনুমতি দিলে শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে পুনঃগণনা করা হয়। এছাড়া ফলাফল নিয়ে আপত্তি থাকলে ভোটশেষ হওয়ার পর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করার সুযোগও রয়েছে।
কেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্ট, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আরএমএস সার্ভারের তথ্য একত্রিত থাকায় ভোটের ফলাফল চাইলেই পরিবর্তন করা যায় না। কোনো অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ থাকলেও সেটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই যাচাই ও সমাধান হয়। ফলে ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হয়।