আলোকচিত্রে কবিতার জীবন নিয়ে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে প্রদর্শনী

রাজধানীর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন আয়োজন নিয়ে হাজির হয়েছে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকা। এখানে শুরু হচ্ছে প্রখ্যাত আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের ৬৬তম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ‘ফটোসিয়াম: লাইফ অব পোয়েট্রি’ শিরোনামের এই প্রদর্শনী উদ্বোধন হয়েছে ৩ এপ্রিল, চলবে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

আলোকচিত্রের দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের দুই প্রভাবশালী কবি শামসুর রাহমান এবং আল মাহমুদের বিরল সাদা-কালো প্রতিকৃতি ও আর্কাইভাল উপকরণ। প্রায় ৬০টি আলোকচিত্রের পাশাপাশি প্রদর্শিত হচ্ছে কিছু অপ্রকাশিত ভিডিও।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে এবং খ্যাতিমান শিল্পী মনিরুল ইসলাম।

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে নাসির আলী মামুন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের আলোকচিত্রে ধারণ করে আসছেন। যার মাধ্যমে তিনি অনন্য ভিজ্যুয়াল আর্কাইভ গড়ে তুলেছেন। তার ক্যামেরায় কবিরা কেবল সাহিত্যিক পরিচয়ে নয়, বরং জটিল মানবিক সত্তা হিসেবেই উঠে এসেছেন। শামসুর রাহমানের প্রতিকৃতিতে ধরা পড়ে নিঃশব্দ মননশীলতা, আর আল মাহমুদের ছবিতে ফুটে ওঠে গভীর আবেগ ও আত্মচিন্তার ছাপ।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ ২০০৪ সালের ৩১ মে অনুষ্ঠিত দুই কবির একটি ঐতিহাসিক সাক্ষাতের আলোকচিত্র ও ভিডিও। দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের পর শ্যামলীতে শামসুর রাহমানের বাসভবনে এই সাক্ষাৎ আয়োজন করেছিলেন নাসির আলী মামুন। সেই সময় ধারণ করা দৃশ্য, যা পরবর্তীতে প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়। এবার দর্শকদের সামনে নতুন করে তুলে ধরা হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, ‘ফটোসিয়াম: লাইফ অব পোয়েট্রি’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী নয়। এটি সাহিত্য ও দৃশ্যশিল্পের মধ্যে এক গভীর সংলাপ। এখানে কবিদের শব্দের বাইরে তাঁদের নীরবতা ও মানবিক উপস্থিতির সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি হয়।

১৯৫৩ সালের ১ জুলাই ঢাকায় জন্ম নেওয়া নাসির আলী মামুন বাংলাদেশের প্রতিকৃতি আলোকচিত্রের জনক হিসেবে পরিচিত। ‘ক্যামেরার কবি’ নামে খ্যাত এই আলোকচিত্রী দেশে-বিদেশে ৬৫টি একক প্রদর্শনী করেছেন এবং ২০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি প্রথম আলোর ফটো সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সাথে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন।

বিভিন্ন স্বীকৃতির মধ্যে তিনি পেয়েছেন শিল্পকলা পদক (২০১৮), বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ (২০২২) এবং একুশে পদক (২০২৫)। বর্তমানে তিনি ‘ফটোসিয়াম’ প্রতিষ্ঠার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। যা দেশের আলোকচিত্র ঐতিহ্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।