ওয়াশিং মেশিনে জুতা ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি জানেন তো?

আজকের ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচানো যেন এক ধরনের দক্ষতা। অফিস, পড়াশোনা, পরিবার সব সামলে অনেকেই এখন দৈনন্দিন কাজগুলো দ্রুত সারতে চান। এ জন্য জামাকাপড়ের পাশাপাশি জুতাও অনেকে তুলে দিচ্ছেন ওয়াশিং মেশিনে। কাজটি সহজ মনে হলেও, সব জুতা মেশিনে ধোয়া ঠিক নয়। আর ভুল পদ্ধতিতে ধুলে ক্ষতি হতে পারে জুতার। এমনকি নষ্ট হতে পারে আপনার প্রিয় ওয়াশিং মেশিনও।

সব জুতা কি মেশিনে ধোয়া যায়?

প্রথমেই জানা দরকার, সব ধরনের জুতা মেশিনে ধোয়ার জন্য ঠিক নাও হতো পারে। লেদার, সুয়েড বা সিল্কজাতীয় জুতা তো একেবারেই নয়। এতে জুতার রং ফিকে হয়ে যেতে পারে, উপাদান শক্ত বা বিকৃত হয়ে যেতে পারে।

তবে ক্যানভাস, স্পোর্টস শু বা সিনথেটিক উপাদানের জুতা তুলনামূলকভাবে মেশিনে ধোয়া যায়। তবুও সঠিক নিয়ম না মানলে এই জুতাগুলোরও ক্ষতি হতে পারে।

ধোয়ার আগে প্রস্তুতি নিন

জুতা সরাসরি মেশিনে ঢুকিয়ে দিলেই কাজ শেষ, এমনটা ভাবা ভুল। প্রথমেই জুতার ফিতা (লেস) ও ইনসোল খুলে ফেলুন। কারণ এগুলো আলাদা করে পরিষ্কার করলে ভালো থাকে এবং জুতার ভেতরের অংশও ঠিকমতো ধোয়া যায়।

যদি জুতার গায়ে কাদা বা জমাট ময়লা থাকে, তাহলে আগে শুকনো ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এতে মেশিনের ভেতরে অতিরিক্ত ময়লা জমবে না। ইনসোল আলাদা করে হালকা সাবান পানিতে ধোয়া ভালো, কারণ মেশিনে দিলে এর আকার নষ্ট হতে পারে।

লন্ড্রি ব্যাগ ব্যবহার কেন জরুরি

জুতা কখনোই সরাসরি মেশিনে দেওয়া ঠিক নয়। একটি লন্ড্রি ব্যাগ বা বালিশের কভারের মধ্যে জুতা রেখে দিন। এতে ধোয়ার সময় জুতা মেশিনের দেয়ালে বারবার আঘাত করবে না, ফলে এর আকৃতি ঠিক থাকবে।

একই সঙ্গে মেশিনের ভারসাম্য রক্ষা করতেও সাহায্য করে এই পদ্ধতি। চাইলে জুতার সঙ্গে এক-দুটি পুরোনো তোয়ালে দিয়ে দিতে পারেন। এতে শব্দ কম হবে এবং ধোয়ার সময় ঝাঁকুনিও কম লাগবে।

সঠিক ডিটারজেন্ট বেছে নিন

জুতা ধোয়ার সময় ডিটারজেন্ট নির্বাচনেও সতর্কতা জরুরি। পাউডার ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে অনেক সময় জুতার গায়ে সাদা দাগ পড়ে যায়। তাই মাইল্ড লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করাই ভালো।

মেশিনের সেটিংসও ঠিকভাবে বেছে নিতে হবে। সবসময় ‘জেন্টল’ বা ‘ডেলিকেট’ মোডে মেশিন চালান এবং ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। গরম পানি জুতার আঠা দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে জুতার অংশ খুলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ড্রায়ার ব্যবহার করবেন না

অনেকেই ধোয়ার পর জুতা দ্রুত শুকানোর জন্য ড্রায়ার বা স্পিন মোড ব্যবহার করেন। কিন্তু এটি জুতার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ধাপগুলোর একটি। এতে জুতার গঠন বদলে যেতে পারে। জুতা অনেক সময় শক্ত হয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো, জুতা ধোয়ার পর হালকা ঝেড়ে ছায়াযুক্ত স্থানে রেখে শুকানো। সরাসরি রোদে দিলে রং ফিকে হয়ে যেতে পারে। তাই এ দিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

মেশিন পরিষ্কার করুন

জুতা ধোয়ার পর অনেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এড়িয়ে যান, মেশিন পরিষ্কার করা। জুতার সঙ্গে থাকা ধুলাবালি, ময়লা বা ডিটারজেন্টের অবশিষ্টাংশ মেশিনের ভেতরে থেকে যেতে পারে।

তাই জুতা ধোয়ার পর মেশিনটি একবার খালি চালিয়ে নিন। এতে ভেতরের অংশ পরিষ্কার থাকবে এবং ভবিষ্যতে জামাকাপড় ধোয়ার সময় কোনো সমস্যা হবে না।

সচেতন হলেই ঝামেলা কম

ওয়াশিং মেশিনে জুতা ধোয়া সময় বাঁচাতে পারে। তবে এর জন্য দরকার সঠিক জ্ঞান ও সতর্কতা। কোন জুতা মেশিনে দেওয়া যাবে, কীভাবে দিতে হবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলেই জুতা থাকবে ভালো, মেশিনও চলবে দীর্ঘদিন।

ছোট কিছু নিয়ম মেনে চললেই দৈনন্দিন কাজ হয়ে উঠতে পারে আরও সহজ ও নিরাপদ।