‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকলেট ফ্যাক্টরি’ সিনেমার কথা মনে পড়ে? উইলি ওয়াঙ্কার চকলেট বানানোর কারখানায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পাঁচ খুদেকে। ছবি নয়, বাস্তবেও এমন ফ্যাক্টরি রয়েছে যেখানে আপনি ইচ্ছে করলে ঘুরতে যেতে পারেন। কী ভাবে চকলেট বানানো হয় তা থেকে শুরু করে চকোলেট কীভাবে প্যাকিং করা হয়— সবকিছুই স্বচক্ষে দেখতে পাবেন।
চকলেট কমবেশি সকলেরই প্রিয়। কিন্তু এক একজন এক এক ধরনের চকলেট খেতে পছন্দ করেন। কারও পছন্দ মিষ্টি চকলেট তো কারও তেতো। সব চকলেটই তৈরি হয় কোকোয়া বিনস্ থেকে। তাহলে চকলেটের স্বাদ এমন ভিন্ন হয় কেন? আর এদের পুষ্টিগুণেও কেন ভিন্নতা? আর কোন চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য ভালো চলুন জেনে নেয়া যাক-
২০০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে মধ্য আমেরিকায় চকলেটের উৎপত্তি হওয়ার পরে তা নিয়ে চলেছে নানা গবেষণা। কোনও উপাদান কম বা বেশি মিশিয়ে স্বাদবদলও হয়েছে চকলেটের।
স্বাদ ও রংবিশেষে চকলেটের নামও হয়েছে আলাদা। যে চকলেটের স্বাদ তেতো, তা ডার্ক চকলেট। ডার্ক চকলেটে কোকোয়া বাটার, কোকোয়া পাউডারের সঙ্গে মেশানো হয় সামান্য পরিমাণ চিনিও। চকলেটটি যেন স্বাদে বেশি তেতো না হয়ে যায়, তার জন্য ভ্যানিলা-সহ অন্যান্য ফ্লেভার মেশানো হয়।
তবে, কোকো পাউডার ছোটদের রক্তের কিছু উপাদান বাড়িয়ে দেয়। যারা স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছে কিংবা হাইপার-অ্যাকটিভ শিশুদের ক্ষেত্রে ডার্ক চকলেট না খেতে দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
দুধ দিয়ে দু’ধরনের চকলেট বানানো হয়, মিল্ক চকলেট এবং হোয়াইট চকলেট।
তবে, এই দু’ধরনের চকলেটের স্বাদগত ও বর্ণগত দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে। মিল্ক চকলেটের সঙ্গে কোকোয়া বিনসের রঙের মিল রয়েছে। দুধের সঙ্গে চিনি, কোকোয়া বাটার, কোকোয়া পাউডার মিশিয়ে মিল্ক চকলেট তৈরি করা হয়।
অন্য দিকে, হোয়াইট চকলেট বানানো হয় দুধ, চিনি এবং কোকোয়া বাটার দিয়ে। কোকোয়া পাউডার থাকে না বলেই এই চকলেটের রং সাদা। তাই এর নামও দেওয়া হয়েছে হোয়াইট চকলেট।
বর্তমানে মিল্ক চকলেট প্রস্তুতির সময় যাতে জলের পরিমাণ কমানো যায়, তাই ঘন দুধের পরিবর্তে মিল্ক পাউডার ব্যবহার করা হয়।
ডার্ক চকলেটে ৩৫ শতাংশ কোকোয়া থাকে। মিল্ক চকলেটে কোকোয়ার পরিমাণ ১০ শতাংশ। তাই মিল্ক চকলেটের সঙ্গে ডার্ক চকলেটের স্বাদের আকাশ-পাতাল তফাত থাকে।
প্রতি ১০০ গ্রাম ডার্ক ও মিল্ক চকলেটের পুষ্টিগুণের একটা তালিকা এখানে তুলে ধরা হলো।
খাদ্য উপাদান ডার্ক চকলেট মিল্ক চকলেট
ক্যালরি ৫৯৮ ৫৩৪
মোট চর্বি ৪২.৬ গ্রাম ২৯.৭ গ্রাম
কোলেস্টেরল ৩ মিলিগ্রাম ২৩ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ২০ মিলিগ্রাম ৭৯ মিলিগ্রাম
কার্বোহাইড্রেট ৪৫.৯ গ্রাম ৫৯.৪ গ্রাম
প্রোটিন ৭.৮ গ্রাম ৭.৭ গ্রাম
ক্যালসিয়াম ৭৩ মিলিগ্রাম ১৮৯ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম ৭১৫ মিলিগ্রাম ৩৭২ মিলিগ্রাম
সূত্র: ক্যালরি কিং
তাই উপাদানগত দিক দিয়ে বিচার করলে দেখা যায়, মিল্ক চকলেটের থেকে ডার্ক চকলেটে ক্যালোরি বেশি। এমনকি, পুষ্টিগত নানা উপাদান বেশি রয়েছে ডার্ক চকলেটের মধ্যে।
/জে পি/