রেটিনল কী, কেন ব্যবহার করবেন রেটিনলসমৃদ্ধ পণ্য

ত্বকচর্চায় আগ্রহীদের কাছে রেটিনল পরিচিত নাম। অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্ট এবং ব্রণের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে রেটিনল সমৃদ্ধ পণ্য আজকাল বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, রেটিনল আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে।

ভিটামিন-এ এর বিভিন্ন ফর্মকে এক কথায় রেটিনয়েডস বলা হয়, যার মধ্যে একটি ফর্ম হলো রেটিনল। এটি ব্যবহারের উপকারিতা যেমন প্রচুর, তেমনি আছে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও।

রেটিনলের একটা অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, অন্যান্য অ্যান্টি-এজিং প্রডাক্টের মতো এটি ত্বকের মৃত কোষগুলোকে অপসারণ করে না। বরং রেটিনলের ক্ষুদ্র অণুগুলো এপিডার্মিসের (ত্বকের বাইরের স্তর) একেবারে গভীরে প্রবেশ করে কাজ করে।

এ ছাড়াও রেটিনল ত্বকের মাঝামাঝি স্তরে ইলাস্টিন এবং কোলাজেনের উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এ দুই বিউটি ফ্যাক্টরের প্রভাবে ত্বক টানটান হয় এবং ত্বকে  লাবণ্যতা আসে যা বলিরেখা বা বয়সের ভাঁজ এবং ওপেন পোরস কমাতে কাজ করে।

ব্রণ এবং মুখের দাগ-ছোপ কমাতেও রেটিনল ভালো কাজ করে। এ ছাড়া রেটিনলের ত্বকে একটি এক্সফোলিয়েটিং প্রভাব রয়েছে; যেহেতু স্পট বা দাগ দূর করতে রেটিনল চমৎকার কাজ করে থাকে তাই এর ব্যবহারে স্বাভাবিকভাবেই ত্বক আস্তে আস্তে উজ্জ্বল হতে থাকে।

এক কথায় রেটিনল ত্বকে বয়সের ভাঁজ বা ফাইন লাইন, বলিরেখা, রোদে পোড়া দাগ, ব্রণ বা মেছতার দাগ ইত্যাদি দূর করে।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, ত্বকে রেটিনল ব্যবহারে চট করে ভালো ফল পাওয়া যাবে না। অন্তত কয়েক সপ্তাহ ব্যবহারের পরই রেটিনলের প্রভাব বোঝা সম্ভব। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টানা আট সপ্তাহ রেটিনল ব্যবহার করেছে, তাদের মধ্যে চোখের চার পাশের এবং ঘাড়ের বলিরেখা প্রচুর কমেছে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
রেটিনলের ব্যবহার শুরুর পরপরই সাধারণত অনেকে ত্বকের শুষ্কতায় ভোগেন। যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক, তাদের তাই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী রেটিনল ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়াও প্রথমবার ব্যবহারের পর কারো কারো ত্বক লালচে হয়ে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, ব্রণ হতে পারে। ১০ শতাংশেরও কম ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে রেটিনল ব্যবহারে ত্বকের ‘সান সেনসিটিভিটি  বেড়ে যায়। অর্থাৎ রোদে গেলেই মুখ লাল হয়ে, র‍্যাশ বেরিয়ে খারাপ অবস্থা হয়ে যায়। এই ঝুঁকি এড়াতে রাতে রেটিনল ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।   

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে শুরুর দিকে একদিন পরপর রেটিনল ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তবুও যদি ত্বকের জ্বালাপোড়া না কমে তাহলে দ্রুত ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা 
কখনোই রেটিনলযুক্ত একাধিক প্রডাক্ট একসঙ্গে ব্যবহার করবেন না। অ্যান্টি-এজিং এবং ব্রণ প্রতিরোধী সব পণ্যেই আজকাল কম-বেশি মাত্রায় রেটিনল থাকে। সে ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অনুযায়ী যে কোনো একটি পণ্য বেছে নেবেন।

গর্ভবতী নারীদের রেটিনল ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এমনকি শীঘ্রই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, এমন ক্ষেত্রেও রেটিনল এড়িয়ে যাওয়া ভালো।

রেটিনল ব্যবহারে একজিমা এবং রোসেসিয়ার মতো ত্বকের সমস্যা বাড়তে পারে। আগে থেকেই এমন সমস্যা থেকে থাকলে প্রথমে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি রেটিনল ব্যবহারের পর মুখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। রাতে মুখ পরিষ্কার করে, শুকিয়ে প্রথমে রেটিনল ব্যবহার করে নিন। এর পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে আপনার ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার লাগান।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে তবে সঠিক ব্যবহারে এই রেটিনলই আপনার অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্টে দারুণ ভরসা হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: হেলথলাইন