পুরোনে এই স্টাইলে ফিরেছে নতুন রূপে

লুকের পরিবর্তনের সবচেয়ে সহজ উপায়, হেয়ারকাট। চুলে একঘেয়ে ভাব চলে এসেছে। বড় কোনো হেয়ারকাট করার সাহস নেই। তাহলে করাতে পারেন পুরোনো এই স্টাইল। চেহারায় সামান্য পরিবর্তন আনতে চাইলে মেকআপ নয়, করাতে পারেন চুলের ফ্রিঞ্জ কাট। মজার ব্যাপার হলো পুরোনো স্টাইল হলেও, ফিরে এসেছে নতুন রূপে।

ফ্রিঞ্জ বলতে বোঝায় কপালের সামনের দিকের চুলগুলো ছোট করে কাটা, যেগুলো মুখের ওপর নেমে আসে। পশ্চিমা বিশ্বে এটাকে বলা হয় ব্যাংস কাট। তবে আমাদের দেশে এটা ‘ফ্রিঞ্জ’ নামে পরিচিত। প্রথম দেখায় খুব সাধারণ মনে হলেও এই ছোট্ট কাটটাই চেহারায় এনে দিতে পারে বড় বদল। কারও চোখে এটা একটা সাহসী সিদ্ধান্ত। আবার কারও কাছে একেবারে কিউট একটা লুক।

ফ্রিঞ্জের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পুরো হেয়ারকাট বদলানো লাগছে না। কিন্তু লুক যেন খুব সহজে বদলে যায়। বিশেষ করে যাদের কপাল একটু চওড়া বা লম্বা মুখ, তাদের চেহারায় এই কাট বেশ মানায়। এই কাটের মাধ্যমে সামনের দিকে চুলের একটা ফ্রেম তৈরি হয়, যেটা মুখকে ছোট দেখায়। সেই সাথে হাইলাইট করে চোখ ও গালকে।

তবে ফ্রিঞ্জ কাট একেক চুলে একেক রকম লাগে। সোজা চুলে হয়তো একভাবে বসে, কোঁকড়া চুলে আবার তার ভিন্ন ছন্দ। অনেকেই ভাবেন কোঁকড়া বা ঢেউ খেলানো চুলে ফ্রিঞ্জ হয় না। আসলে তা নয়। শুধু একটু কৌশলী হতে হবে, আর জানতে হবে স্টাইলিং কাট। আবার যারা প্রতিদিন চুলে হালকা ব্লো-ড্রাই বা স্ট্রেইটনার দিতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য ফ্রিঞ্জ একেবারেই ঝামেলাহীন।

এই হেয়ারকাটের জনপ্রিয়তা শুধু আমাদের দেশে নয়, বলিউড, হলিউড বা কোরিয়ান পপ সংস্কৃতিতেও দেখা যায়। আলিয়া ভাটের হারকা কার্টেন ফ্রিঞ্জ, কিংবা ব্ল্যাকপিংকের লিসার তীক্ষ্ণ ব্লান্ট ফ্রিঞ্জ, সবই যেন ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে অনুপ্রেরণা।

এই ফ্রিঞ্জ কেবল ফ্যাশন নয়। কখনো কখনো এটা হয়ে দাঁড়ায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার হাতিয়ার। অনেকেই মন খারাপের সময় বা নতুন কোনো শুরুতে ফ্রিঞ্জ কেটে ফেলেন। কেটে ফেলা মানে শুধু চুল ছোট করা নয়, নতুন করে নিজেকে দেখার চেষ্টা।

এই ছোট্ট পরিবর্তনটা মাঝে মাঝে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিজেকে একটু সময় দেওয়া যায়। আয়নায় তাকিয়ে নতুন করে ভালোবাসা যায়। আর সেই আয়নার প্রতিবিম্বে যখন এক নতুন আমি দেখা যায়। তখন মন বলে ওঠে, ‘হ্যাঁ, আজকে আমি নিজেকে নতুন লাগছে।’

এই ছোট্ট ফ্রিঞ্জ, চেহারার সঙ্গে সঙ্গে বদলে দেয় আমাদের ভাবনাও। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার শুরু হতে পারে ঠিক এখান থেকেই।