তৈলাক্ত ত্বক মানেই যেন চিন্তার ভাঁজ। ঘনঘন ব্রণ ওঠা, ফুসকুড়ি, ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস। সবকিছুই যেন এই ত্বকের জন্য নিয়মিত সঙ্গী। বিশেষ করে অয়েলি স্কিন আরও বেশি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই ভুল ত্বকচর্চার কারণে এই সমস্যা বাড়িয়ে তোলেন অজান্তেই। অথচ কিছু সহজ নিয়ম মানলেই তৈরি হতে পারে স্বাস্থ্যকর, দীপ্তিময় ত্বক।
ময়েশ্চারাইজার এড়িয়ে যাওয়া
সবচেয়ে বড় ভুল হলো ময়েশ্চারাইজার না ব্যবহার করা। অনেকের ধারণা, তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগালে তেলতেলে ভাব আরও বেড়ে যায়। কিন্তু সত্য হলো, ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার অপরিহার্য। ত্বক যখন শুষ্ক হয়ে যায়, তখনই অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ শুরু করে। ফলে ব্রণ ও ফুসকুড়ি বেড়ে যায়। তাই সবসময় হালকা, ওয়াটার-বেসড ও অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি।
টোনার না ব্যবহার করা
অয়েলি স্কিনের যত্নে টোনারের ভূমিকা অনেক। ভালো মানের টোনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রোমছিদ্র টাইট করে। অনেকেই টোনার ব্যবহার করেন না বা অ্যালকোহলযুক্ত টোনার ব্যবহার করেন। যা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক করে দেয়। ফলে ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করে। তাই সবসময় অ্যালকোহল-মুক্ত টোনার বেছে নেওয়াই উত্তম।
গরম পানিতে মুখ ধোয়া
অয়েলি স্কিনে গরম বা ঈষদুষ্ণ পানি একেবারেই মানানসই নয়। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত উঠে যায়। আর ত্বক আরও বেশি তেল উৎপাদন করতে শুরু করে। এতে মুখ হয়তো সাময়িকভাবে পরিষ্কার মনে হবে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেলতেলে হয়ে উঠবে। তাই অয়েলি স্কিনের জন্য হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিই সবচেয়ে ভালো।
এসেনশিয়াল অয়েল এড়িয়ে যাওয়া
অনেকেই মনে করেন, অয়েলি স্কিনে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা ঠিক নয়। আসলে এই ধারণা ভুল। ল্যাভেন্ডার অয়েল বা রোজমেরি অয়েলের মতো কিছু এসেনশিয়াল অয়েল ত্বকের তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ত্বককে শান্ত রাখে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়। তবে ব্যবহারের আগে অবশ্যই কেরিয়ার অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে।
অতিরিক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার
অয়েলি স্কিনে দিনে বারবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার প্রবণতা থাকে। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং আবারও তেল উৎপাদন বাড়ে। দিনে দুই থেকে তিনবারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত নয়। আর ফেসওয়াশ অবশ্যই হালকা, সালফেট-মুক্ত ও জেল-বেসড হতে হবে।
ঘন ঘন স্ক্রাব করা
ব্ল্যাকহেডস দূর করার জন্য অনেকে সপ্তাহে একাধিকবার স্ক্রাব করেন। এতে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রোমছিদ্র। স্ক্রাব ব্যবহার সীমিত করতে হবে, সপ্তাহে একবারই যথেষ্ট। আর ব্যবহার করতে হবে মাইল্ড স্ক্রাব, যাতে বড় দানা না থাকে।
সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া
তৈলাক্ত ত্বকের আরেকটি বড় শত্রু হলো সানস্ক্রিন এড়িয়ে যাওয়া। অনেকেই মনে করেন, সানস্ক্রিন লাগালে ত্বক আরও তেলতেলে হয়। কিন্তু সানস্ক্রিন ছাড়া অয়েলি স্কিন আরও বেশি সমস্যায় পড়ে, যেমন পিগমেন্টেশন ও আগেভাগে বয়সের ছাপ। তাই অয়েল-ফ্রি, জেল-বেসড সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে প্রতিদিন।
ভুল খাবারের অভ্যাস
অয়েলি স্কিন কেবল বাহ্যিক পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে না। ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত ঝাল-তেলযুক্ত খাবার, সফট ড্রিঙ্কস ও চিনি বেশি খেলে ত্বকের সমস্যা বেড়ে যায়। তাই বেশি করে পানি পান করা, শাকসবজি, ফল ও বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন মানেই সতর্কতা। অযথা অনেক পণ্য ব্যবহার না করে সঠিক ক্লিনজার, টোনার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই ত্বক হবে পরিষ্কার ও উজ্জ্বল। নিয়মিত ঘুম, সঠিক খাবার আর যথেষ্ট পানি, এসবও অয়েলি স্কিনের বন্ধু। ভুলগুলো এড়িয়ে চললে তৈলাক্ত ত্বক হয়ে উঠবে আপনার সৌন্দর্যের সঙ্গী।