মেকআপ করেও ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে

মেকআপ ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়, আত্মবিশ্বাস জাগায়। তবে প্রতিদিন ফাউন্ডেশন, কমপ্যাক্ট, কনসিলার, লিপস্টিক, আইশ্যাডোর স্তর জমতে জমতে ত্বকের রন্ধ্রমুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় নানা সমস্যা। ব্রণ, র‌্যাশ, নিস্তেজ ত্বক, এমনকি অকাল বার্ধক্যের ছাপও। তাই মেকআপ ভালোবাসলেও ত্বকের যত্নের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে মেকআপের পরও ত্বক থাকবে সুস্থ ও উজ্জ্বল।

সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার

দিনে বাইরে বেরোনোর আগে সানস্ক্রিন মাখা একেবারে আবশ্যক। সাধারণ সানস্ক্রিনের চেয়ে টিন্টেড সানস্ক্রিন ভালো কাজ করে। কারণ এটি ত্বকের দাগছোপ ঢেকে দেয়। মেকআপ করতে যাঁরা খুব একটা পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য টিন্টেড সানস্ক্রিনই যথেষ্ট। এটি মেকআপের বেস হিসেবেও কাজ করবে।

হালকা মেকআপে ভরসা রাখুন

অতিরিক্ত মেকআপ যেমন কৃত্রিম দেখায়, তেমনি ত্বকের ক্ষতিও বাড়ায়। তাই প্রতিদিন ভারী ফাউন্ডেশন বা একাধিক লেয়ার না দিয়ে হালকা মেকআপ করুন। শুধু প্রয়োজনীয় অংশে কনসিলার, সামান্য ফাউন্ডেশন আর ফেসপাউডার দিলেই যথেষ্ট। এতে ত্বক কিছুটা হলেও শ্বাস নিতে পারবে।

এক্সফোলিয়েশন জরুরি

ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে মৃত কোষ পরিষ্কার করা দরকার। সপ্তাহে অন্তত দু’বার স্ক্রাব ব্যবহার করুন। চাইলে ঘরোয়া স্ক্রাব-কফি বা ওটসের সঙ্গে দই মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বক পরিষ্কার হবে, ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডস কমবে এবং নতুন কোষ জন্ম নিতে পারবে।

মেকআপ ব্রাশ পরিষ্কার রাখুন

অনেকেই মেকআপ ব্রাশ বা স্পঞ্জ মাসের পর মাস পরিষ্কার করেন না। এগুলোতে ব্যাকটেরিয়া জমে ত্বকে ব্রণ ও র‌্যাশ হতে পারে। তাই অন্তত সপ্তাহে একদিন ব্রাশ ও স্পঞ্জ ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

ডাবল ক্লিনজিংয়ের অভ্যাস

দিন শেষে মেকআপ নিয়ে কখনো ঘুমোতে যাবেন না। প্রথমে মেকআপ রিমুভার বা ক্লিনজিং অয়েল দিয়ে প্রসাধনী তুলে ফেলুন। এরপর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এই ডাবল ক্লিনজিং প্রক্রিয়ায় ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার হয়।

নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং

ত্বক আর্দ্র না থাকলে সহজেই শুষ্কতা, রিঙ্কল বা অ্যালার্জি দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন মেকআপের আগে ও পরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। চাইলে হালকা জেল বেসড ময়েশ্চারাইজার নিতে পারেন, যা তৈলাক্ত বা মিশ্র ত্বকের জন্য উপযোগী।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি

শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়, ভেতর থেকেও যত্ন নিতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। আর কমপক্ষে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান। এতে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে এবং মেকআপও লাগবে সুন্দর।

মেকআপ করা মানেই যে ত্বকের ক্ষতি হবে, তা নয়। বরং সঠিক যত্ন নিলে মেকআপও উপভোগ করা যায়, আবার ত্বকও থাকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত। তাই প্রতিদিনের মেকআপ রুটিনের পাশাপাশি স্কিনকেয়ার রুটিনকেও সমান গুরুত্ব দিন। কারণ সাজগোজ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন ত্বক থাকে ভেতর থেকে সতেজ ও সুন্দর।