শুষ্ক চুলের জন্য দই ও মধুর কার্যকর ট্রিক

একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর চুলের জেল্লা, কোমলতা আর স্বচ্ছ ভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকে। নিয়মিত স্পা বা ব্যয়বহুল ট্রিটমেন্টে কিছুটা চুলকে সামলানো যায়, তবে সবের পক্ষে তা সম্ভব নয়। তাছাড়া এই ধরনের প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক চুলের ক্ষতি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির উপাদান দিয়েও চুলকে সতেজ রাখা সম্ভব। আর এই ক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক হলো দই।

চুলের যত্নে দইয়ের ঘরোয়া মাস্ক

দই ও মধু: শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের জন্য দারুণ কার্যকর। মধু প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট হিসেবে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে। আধ কাপ দইয়ের সঙ্গে ২ টেবিল চামচ মধু মেশান। চুল ও স্ক্যাল্পে মাখুন, ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করুন।

দই ও ডিম: চুল মূলত প্রোটিন দিয়ে তৈরি। দই ও ডিমের মিশ্রণ চুলে বাইরের প্রোটিন সরবরাহ করে এবং চুলের বাড়বৃদ্ধি বৃদ্ধি করে। একটি ডিম ফেটিয়ে আধ কাপ দইয়ের সঙ্গে মেশান। চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করুন।

দই ও কারিপাতা: কারিপাতায় রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন ও প্রোটিন, যা চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। এক মুঠো কারিপাতা বেটে দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। ৪৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। চাইলে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

দই ও অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরা স্ক্যাল্পের পিএইচ সমতা বজায় রাখে এবং চুল রেশমের মতো কোমল রাখে, জটমুক্তও করে। ৩ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল আধ কাপ দইয়ের সঙ্গে মেশান। চুলে লাগিয়ে ২০–৩০ মিনিট রাখুন, তারপর শ্যাম্পু করুন।

দই ও লেবুর রস: স্ক্যাল্পে ময়লা বা খুশকি থাকলে চুলের লম্বা হওয়ার পথ বাধাগ্রস্ত হয়। লেবুর ভিটামিন সি ও দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখে। ১ টেবিল চামচ লেবুর রস আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে মেশান। শুধুমাত্র স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

মাস্ক ব্যবহারের সতর্কতা

  • সব সময় ঘরে পাতা টক দই ব্যবহার করুন, যাতে প্রিজারভেটিভ না থাকে।
  • ধোয়ার সময় খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করবেন না, এতে চুলের ক্ষতি হতে পারে।
  • ভালো ফল পেতে সপ্তাহে অন্তত একবার এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করুন।

এই ঘরোয়া দইমুখী ট্রিটমেন্ট চুলকে জেল্লা, কোমলতা ও সতেজ ভাব ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবে, বয়সের প্রভাবকে সাময়িক হলেও কমিয়ে আনবে।