‘দ্যাটস হট’ বলেই বিলিয়ন ডলারের মালিক প্যারিস হিলটন

আজকের দিনে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ কথাটা খুব চেনা। যারা ফ্যাশন, সাজগোজ বা জীবনধারা নিয়ে নানা পরামর্শ দেন, ছবি বা ভিডিও পোস্ট করেন, তারাই যেন হয়ে উঠেন ইনফ্লয়েন্সার। কিন্তু আজ থেকে ২০ বছর আগে যখন ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক কিছুই ছিল না, তখনই এক তরুণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার নাম, প্যারিস হিলটন।

অনেকে তাকে শুধু ধনী পরিবারের মেয়ে ভাবতেন। কিন্তু তিনি শুধু আলোচনায় ছিলেন না, নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা।

২০০০ সালের শুরুর দিকের কথা। প্যারিস হিলটনকে প্রায়ই দেখা যেত লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায়। গায়ে থাকত চকচকে গোলাপি ট্র্যাকস্যুট, হাতে ছোট পোষা কুকুর আর চোখে সানগ্লাস। ক্যামেরায় তার ছবি মানেই পরদিন খবরের কাগজে শিরোনাম।

প্যারিস তার নামেই বাজারে আনেন পারফিউম, হ্যান্ডব্যাগ, স্যান্ডেল ও মেকআপ পণ্য। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

অনেকে ভাবত তিনি একটু বোকা মেয়ে। কিন্তু প্যারিস নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি বোকার অভিনয় করতাম। এটা ছিল একটা ক্যারেক্টার। আমি তখনই একটা বড় কিছু গড়ছিলাম।’

অর্থাৎ, নিজেকে নিয়ে যা কিছু হচ্ছিল, সব তিনি জানতেন ও নিয়ন্ত্রণ করতেন। এটা ছিল তার ব্র্যান্ড তৈরি করার কৌশল।

প্যারিস তার নামেই বাজারে আনেন পারফিউম, হ্যান্ডব্যাগ, স্যান্ডেল ও মেকআপ ইত্যাদি। অনেকে ভেবেছিল, এসব খামখেয়ালিপূর্ণ ব্যবসা। কিন্তু পরে দেখা গেল, তার শুধু পারফিউম লাইন থেকেই আয় হয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার। তার পণ্যে মেয়েরা যেমন আগ্রহ দেখিয়েছে, তেমনি ব্র্যান্ডগুলোও তার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছে।

চকচকে জামা, বড় চুলে নিজস্ব স্টাইল প্যারিস তখন থেকেই করতেন, এখন তা ফ্যাশন ট্রেন্ড। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

প্যারিসের পোশাকের স্টাইল নিয়ে অনেকেই ব্যঙ্গ করতেন। কেউ বলত, তিনি শুধু গোলাপি রঙ পরেন, কেউ আবার বলত তার রুচি বাচ্চাদের মতো। কিন্তু প্যারিস এসব পাত্তা দিতেন না। তিনি নিজের মতো করে চলতেন।

আজকের দিনে যেটা ‘ওয়াই-টু-কে’ নামে আবার ফিরে এসেছে। লো-রাইজ জিনস, চকচকে জামা, বড় চুল, এসব প্যারিস তখন থেকেই করতেন। এখনকার অনেক ফ্যাশন ট্রেন্ডের শুরুই হয়েছিল তার কাছ থেকে।

প্যারিস হিলটনের বিখ্যাত কথা ছিল ‘দ্যাটস হট’ মানে ‘এটা দারুণ’ বা ‘এটা খুবই কুল’। এই বাক্যটা তখনকার তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে অনেকে এটা নিয়ম করে বলত। এটা শুধু মজার কথা ছিল না, এটা ছিল একটা ব্র্যান্ডিং কৌশল। প্যারিস প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, কোনো কথাও যদি ঠিকভাবে বলা যায়, সেটাও ব্যবসা হয়ে যেতে পারে।

এখনকার অনেক ফ্যাশন ট্রেন্ডের শুরুই হয়েছিল তার কাছ থেকে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

অনেক সেলিব্রিটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে পাল্টে নেন। কিন্তু প্যারিস হিলটন কখনোই নিজেকে বদলাননি। বরং তিনি নিজের মতোই ছিলেন, আর দুনিয়াটাই একসময় তার মতো হতে শুরু করল।

বর্তমানে তার নামে আছে ৪৫টির বেশি বিউটি স্টোর। ‘কুকিং উইথ প্যারিস’ নামে একটি রিয়েলিটি শোও পরিচালনা করছেন তিনি। সেই সাথে তিনি লিখেছেন বেস্টসেলার বই। এমনকি টেকনোলজিতে বিনিয়োগ করেও সফল হয়েছেন। আর সবকিছুই করেছেন নিজে নিজে। কোনো পিআর টিম বা ম্যানেজার এসবের নায়ক ছিলেন না।

ফ্যাশন, ব্যবসা আর ট্রেন্ড। সব মিলিয়ে প্যারিস ছিলেন অনেক আগেই সময়ের চেয়ে এগিয়ে। তিনি বাজারকে বুঝেছিলেন অন্য যেকোনো সেলিব্রেটির চেয়ে আগে। ইন্সটাগ্রাম, টিকটক, ইনফ্লুয়েন্সার, এইসবের অনেক আগেই তিনি সেইসব কাজ করে ফেলেছিলেন। তিনি ছিলেন ভবিষ্যতের অনেক আগে। আর তাতেই ছিল তার সাফল্যের মূল রহস্য।