দাম আড়াই থেকে সাড়ে চার লাখ ডলার, তবুও পেলেই কপাল!

হাতব্যাগের দুনিয়ায় ‘হিমালয়ান বারকিন’কে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। ফরাসি ব্র্যান্ড হারমেসের এ ব্যাগ মিললেই যেন ভাগ্যে ছয়আনা। কারণ বাজারে এর সংখ্যা হাতে গোনা। দাম? ন্যূনতম আড়াই লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত উঠেছে নিলামে।

২০২২ সালে সোথেবিজে হিমালয়ান বারকিন ৩০ মডেল বিক্রি হয় ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারে। যা তখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দামি বারকিন বলে ধরা হয়।

গত ডিসেম্বরে হেরিটেজ অকশনে ২৫ সেন্টিমিটার মাপের আরেকটি ডায়মন্ড হিমালয়ান বারকিন বিক্রি হয়েছে আড়াই লাখ ডলারে।

অনেক তারকাই এই ব্যাগ নিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

কী আছে এই ব্যাগে?

  • নীলো কুমিরের চামড়া। বিশেষ ‘ওমব্রে’ রঙে ধাপে ধাপে ফরসা করা হয়। যাতে হিমালয়ের বরফঢাকা চূড়ার ছাপ মেলে।
  • ১৮ ক্যারেট সাদা সোনা, তার ওপরে সাদা হীরার গয়না। শুধু তালাতেই ৪০টি হীরা।
  • যত হালকা রঙ, তত কঠিন ডাই করার প্রক্রিয়া। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগে নিখুঁত ফরসা ছায়া তুলতে।

 কেন এত বিরল?

হারমেস প্রতি বছর হাতে গোনা কয়েকটি হিমালয়ান বানায়। সেগুলোও রাখা হয় ধনী সংগ্রাহকের গোপন তালিকায়। দোকানে হুট করে ঢুকেও কেউ কিনে ফিরতে পারবেন না। কেবল আমন্ত্রণ থাকলে তবেই সুযোগ মেলে। সেকেন্ডহ্যান্ড বাজারেও দাম ন্যূনতম ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার ইউরোর মধ্যে ঘোরাঘুরি করে।

ইতিহাসের একটু ফিরিস্তি

  • ১৯৯০-এর দশকে হারমেস প্রথম আলাদা ‘ওমব্রে’ ক্রোকো চামড়ায় কাজ শুরু করে।
  • ২০০৮ সালে গোপনে তৈরি হয় প্রথম হিমালয়ান বারকিন ৩০। শুরুতে শুধুই শীর্ষ সংগ্রাহকদের হাতে যেত।
  • ২০১০ সালে ডিজাইনার জঁ-পল গলতিয়ের রানওয়েতে তুলে ধরলে দুনিয়া জেনে যায় ব্যাগটির গল্প।

এরপর থেকেই হিমালয়ান বারকিন বিলাসের শীর্ষ প্রতীক।

রিটেল দামে কী খবর?

নতুন হিমালয়ান বারকিনের অফিসিয়াল দাম ৫৬ থেকে ৬৩ হাজার ডলারের মধ্যে ধরা হলেও দোকান থেকে সরাসরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে নিলাম আর পুনর্বিক্রয়ের বাজারেই আকাশছোঁয়া দাম তৈরি হয়।

তারকাদের পছন্দ

ক্লোয়ি কার্দাশিয়ান থেকে জেনিফার লোপেজ, অনেক তারকাই এই ব্যাগ নিয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন। কারণ একটাই, হাতে হিমালয়ান বারকিন মানে ‘লাক্সারি লিগ’-এ সদস্যপদ নিশ্চিত।

বিলাসী ব্যাগের বাজারে হিমালয়ান বারকিন শুধু দামী নয়, শিল্প-কারিগরি আর দুষ্প্রাপ্যের মিশেলে এক কিংবদন্তি। তাই কেউ যদি বলতেন, ‘টাকা আছে, ব্যাগ দাও’, হারমেস বলত, ‘আগে কিউতে নাম লেখান, তারপর দেখা যাবে!’