কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী ও রাজকীয় ভোজের নাম ‘ওয়াজওয়ান’। এটি শুধু একটি খাবার নয়, বরং কাশ্মীরি সংস্কৃতি, আতিথেয়তা এবং রন্ধনশিল্পের এক প্রতিচ্ছবি। সুগন্ধি মসলা, বাদাম, কিশমিশ আর ঘির সমন্বয়ে তৈরি এই পোলাও যেন ঘরে এনে দেয় উৎসবের ছোঁয়া। ঘরে বসেই বানিয়ে নিতে পারেন এই রাজকীয় খাবারটি। রইল রেসিপি।
উপকরণ
- খাসির মিক্স বটি ৫০০ গ্রাম
- পোলাওয়ের চাল ৫০০ গ্রাম (১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা)
- পানি ১ লিটার
- লবণ ১ টেবিল চামচ বা স্বাদমতো
- আদা-রসুন বাটা ১/২ টেবিল চামচ
- ঘি ২ টেবিল চামচ
- কাজুবাদাম ২ টেবিল চামচ
- বাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ
- শুকনো নারকেল (চেরা) ২ টেবিল চামচ
- কিশমিশ ২ টেবিল চামচ
- ঘি ১/৪ কাপ
- পেঁয়াজ (পাতলা কাটা) ১টি মাঝারি
- মৌরী ২ টেবিল চামচ
- লবঙ্গ ৩-৪টি
- দারচিনি ২-৩ টুকরো
- বড় এলাচ ২-৩টি
- গোলমরিচ দানা ১০-১২টি
- ছোট এলাচ ৫-৬টি
- জিরা-আধা টেবিল চামচ
- লবণ ১ চা-চামচ
- পেঁয়াজ সাজানোর জন্য
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে একটি হাঁড়িতে খাসির মাংস, পানি দিয়ে ফুটতে দিন। ফেনা উঠলে তুলে ফেলুন। তারপর তাতে দিন লবণ ও আদা-রসুন বাটা। ঢেকে দিন। কম আঁচে প্রায় এক ঘণ্টা রান্না করুন, যতক্ষণ না মাংস নরম হয়ে আসে। মাংসের টুকরোগুলো আলাদা করে রাখুন, স্টক ছেঁকে সংরক্ষণ করুন।
অন্য হাঁড়িতে ঘি গরম করে তাতে কাজুবাদাম, বাদাম, শুকনো নারকেল ও কিশমিশ দিয়ে হালকা সোনালি রঙ না আসা পর্যন্ত ভেজে নিন। এগুলো আলাদা করে তুলে রাখুন। আরও একবার ঘি গরম করে কাটা পেঁয়াজ দিন। মাঝারি আঁচে সোনালি রঙ না আসা পর্যন্ত ভাজুন। একটি পরিষ্কার মসলিন কাপড়ে মৌরী, লবঙ্গ, দারচিনি, বড় এলাচ, গোলমরিচ, ছোট এলাচ ও জিরা বেঁধে ছোট একটি পোটলি তৈরি করুন।
এখন হাঁড়িতে ছাঁকা মাংসের স্টক দিন, সেই সঙ্গে মসলার পোটলিটিও। ঢেকে দিন এবং ৮-১০ মিনিট কম আঁচে ফুটতে দিন। সময় হলে পোটলি তুলে ফেলুন। এবার তাতে ভেজানো চাল দিন, নেড়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনমতো লবণ দিন। মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না পানি কিছুটা শুকিয়ে আসে। তারপর সেদ্ধ মাংসের টুকরো দিন, আলতোভাবে মিশিয়ে নিন।
ভাজা বাদাম-কিশমিশ মিশিয়ে ঢেকে দিন। কম আঁচে আরও ৮-১০ মিনিট দমে রাখুন। শেষে ভাজা পেঁয়াজ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন এই সুবাসিত ওয়াজওয়ান পোলাও। কাশ্মীরি মসলা, বাদাম আর ঘির গন্ধে ভরে উঠবে রান্নাঘর। গরম গরম পুলাওয়ের সঙ্গে পরিবেশন করুন রায়তা। একবেলা ভোজনেই মিলবে রাজকীয় তৃপ্তি।