আখরোট নাকি কাজুবাদাম, কোনটি বেশি উপকারী?

শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ত্বক বা চুলের যত্ন, সব ক্ষেত্রেই বাদামের কথা প্রথমে আসে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় বাদামের গুরুত্ব বহুদিনের। নাশতায়, সালাদের সঙ্গে বা শুধু এনার্জি বাড়াতে, আখরোট ও কাজুবাদাম দুটিই জনপ্রিয়। তবে প্রশ্ন একটাই, কোনটিতে উপকার বেশি? দুটোই পুষ্টিগুণে ভরপুর। তবে কোনটি শরীরের জন্য বেশি কার্যকর, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আছে মতভেদ।

আখরোট, মস্তিষ্কের খাদ্য

আখরোটকে ‘ব্রেইন ফুড’ বলা হয়। এর ঝাঁঝালো মতো আকৃতি যেমন মস্তিষ্কের মতো দেখতে, গঠনও তেমনভাবে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে উপকার দেয়। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই, কপার, ম্যাঙ্গানিজসহ আরও নানা পুষ্টি।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, আখরোট নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে, মনোযোগ উন্নত হয় এবং মানসিক চাপ কমে। হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও এটি চমৎকার। খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে আখরোট বিশেষ ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো, প্রদাহ কমানো, হজমশক্তি বাড়ানো। এগুলোর প্রতিটিতেই আখরোটের কার্যকারিতা প্রমাণিত।

ভিজিয়ে খেলে এর ফাইটিক অ্যাসিড কমে। ফলে ভিটামিন-মিনারেল দ্রুত শোষিত হয় এবং হজম আরও সহজ হয়।

কাজুবাদাম, এনার্জির পাওয়ারহাউস

স্বাদে মিষ্টি, নরম টেক্সচারের কাজুবাদাম জনপ্রিয়তার দিক থেকে বাদামের তালিকার শীর্ষে। এতে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, কপার, জিঙ্ক ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এর ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি হলেও এটি শক্তির চমৎকার উৎস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজুবাদাম খেলে শরীরে ‘গুড কোলেস্টেরল’ বাড়ে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়ে। ভিজিয়ে খেলে এর হজম আরও সহজ হয় এবং খনিজ শোষণ বাড়ে। পাশাপাশি এটি ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের কারণে হাড়ও মজবুত হয়।

কোনটি এগিয়ে?

দুটিই উপকারী। কিন্তু পুষ্টি বিশ্লেষণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—

  • হৃদ্‌স্বাস্থ্য: আখরোট এগিয়ে। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্‌পিণ্ডের জন্য তুলনাহীন।
  • মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা: আখরোটই সেরা। স্মৃতি ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা বেশি।
  • এনার্জি: কাজুবাদাম এগিয়ে। এতে ক্যালোরি ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেশি, যা শক্তি বাড়ায়।
  • ত্বক ও চুল: কাজুবাদাম সামান্য এগিয়ে, কারণ ভিটামিন ই ও কপার এতে বেশি থাকে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ: দুই বাদামই উপকারী, তবে আখরোটে ফাইবার বেশি, ফলে পেট ভরা থাকে দীর্ঘসময়।
  • রোগ প্রতিরোধক্ষমতা: দুটিই কার্যকর, তবে কাজুবাদামের জিঙ্ক ও কপার ইমিউনিটি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাহলে কোনটি খাবেন?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স, শারীরিক চাহিদা ও লক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে বাদাম বেছে নেওয়া উচিত। যারা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে আছেন বা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে চান, আখরোট তাদের জন্য বেশি উপকারি। আর যারা বাড়তি এনার্জি চান, ত্বক-চুল ভালো রাখতে চান বা পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে চান, তাদের জন্য কাজুবাদাম ভালো বিকল্প।

তবে দুটোরই পরিমাণ ঠিক রাখা জরুরি। প্রতিদিন ১-২টি আখরোট বা ৪-৫টি কাজুবাদাম যথেষ্ট। অ্যালার্জি বা কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই দরকার।

আখরোট ও কাজুবাদাম দুটিই শরীরের জন্য উপকারী। কোনটিতে বেশি লাভ মিলবে, তা নির্ভর করে আপনার প্রয়োজন ও জীবনযাত্রার ওপর। স্বাস্থ্য রক্ষায় দুটোকেই খাদ্যতালিকায় পালাক্রমে রাখলে উপকার আরও বাড়ে।