বাড়িতে জায়গার অভাব? করতে পারেন ভার্টিক্যাল বাগান

ছোট্ট ব্যালকনি বা বা বাড়ির প্রবেশদ্বারে করতে পারেন এই বাগান। জায়গার অভাব হলেও সেখানে সবুজায়ন সম্ভব। শখ মেটাতে ছোট্ট এই জায়গাতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন ভার্টিক্যাল গার্ডেন। যেতে আসতে সবুজ দেয়াল দেখলে মনটাও সতেজ থাকবে। আজকাল অভিজাত হোটেল এবং অফিসে ভার্টিক্যাল গার্ডেন বেশ দেখা যায়। নিজের বাড়িতে ভার্টিক্যাল বাগান তৈরি করতে চাইলে এখনই লেগে পড়ুন। রইল সহজ কৌশল।

স্থান নির্বাচন জরুরি
বসবার ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর অথবা বাড়ির প্রবেশদ্বারে করতে পারেন ভার্টিক্যাল গার্ডেন। তাই আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে বাগানটি কোথায় করবেন। কাঠ বা ধাতব বোর্ডের উপর ভার্টিক্যাল বাগান বানাতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে জায়গাটি যেন নিরাপদ হয়। সূর্যের আলো আর বাতাস চলাচল যেন ঠিক থাকে। সেদিকেও নজর রাখুন।

কেমন পাত্র লাগবে
এই বাগানের জন্য বিশেষ কোনো টব লাগবে না। সাধারণ মাটি বা প্লাস্টিকের টবে গাছ লাগাতে পারেন। তবে আপনাকে গাছ অনুসারে টব বাছতে হবে। ভার্টিক্যাল বাগানের জন্য বাজারে বেশকিছু রেডিমেড টব কিনতে পাওয়া যায়। সাধারণত ভার্টিক্যাল প্ল্যানটার, ওয়াল-মাউন্ট পাত্র, ঝুলন্ত প্ল্যানটার, পকেট প্ল্যানটার ভার্টিক্যাল বাগানের জন্য আদর্শ। ন্যূনতম স্থানে বাগান করতে চাইলে ভার্টিক্যাল প্ল্যানটার আদর্শ। পুরো দেয়াল জুড়ে বাগান করতে চাইলে বেছে নিন ওয়াল-মাউন্ট পাত্র। সিলিং বা রেলিং থেকে ঝোলানো বাগান চাইলে ঝুলন্ত প্ল্যানটার কিনতে পারেন। দেয়াল বা গ্রিলের সঙ্গে লাগানো ফ্যাব্রিক পকেট প্ল্যানটার ভেষজ এবং ছোট গাছের জন্য দারুণ হতে পারে।

তাড়াহুড়ো করবেন না
ভার্টিক্যাল বাগান করতে গেলে প্রচুর ধৈর্য্য এবং সময় দরকার। তাই আপনি যদি প্রথমবার ভার্টিক্যাল বাগান করে থাকেন, তবে তাড়াহুড়ো করবেন না। বাগানে একদিনে সব গাছ লাগতে যাবেন না। অল্প অল্প করে গাছ লাগান। এক কর্ণার থেকে শুরু করুন। ধীরে ধীরে পুরো দেয়াল সবুজ করতে পারেন। প্রয়োজনে পেশাদার কারো সাহায্য নিন।

সঠিক গাছ বাছুন
ভার্টিক্যাল বাগানে ইচ্ছে মতো গাছ লাগানো যাবে না। আলো এবং বাতাস চলাচলের অবস্থা বুঝে ফার্ন, সুকুলেন্ট, ভেষজ, মানিপ্ল্যান্ট এবং আইভির মতো গাছ লাগাতে পারেন।

যেভাবে যত্ন নিবেন
গাছের পুষ্টি এবং যত্নের জন্য হালকা ওজনের পটিং মিশ্রণ ব্যবহার করুন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা যেন ঠিকঠাক থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। জৈব কম্পোস্ট সার ব্যবহার করুন, তাহলে মাটির উর্বরতা ঠিক থাকবে। এই বাগানের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সময়মতো এবং পরিমিত পানি দেওয়ার বিকল্প নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী এবং নিয়মিত গাছ ছেঁটে নিতে হবে। হলুদ এবং মৃত পাতা সরিয়ে ফেলুন। কীটপতঙ্গ যেন গাছ নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাতে সার দেবেন। পিছনের দিকে লম্বা গাছ এবং সামনে ক্যাসকেডিং রাখুন। বাগানটিকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন রং এবং টেক্সচার ব্যবহার করতে পারেন।