জীবনে সিঙ্গেল হলে পাবেন যে সুবিধাগুলো

দীর্ঘ আট বছরের একটি সম্পর্কে ছিলেন নাবিল ইসলাম (ছদ্মনাম)। কিন্তু গত পাঁচ বছরে নতুন করে আর কোনো সম্পর্কে জড়াননি। ‘সিঙ্গেল’ হিসেবেই দিব্যি আছেন দাবি করেন এই বেসরকারি চাকরিজীবী। নাবিল নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘সিঙ্গেল থাকলে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় থাকে না। আলাদাভাবে মানসিক চাপও থাকে না। কাপলদের চেয়ে নিজের জন্য তুলনামূলক বাড়তি সময় পাওয়া যায়। আর নিজেকে ভালোবাসারও অফুরন্ত সময় পাওয়া যায়। ’ 

নাবিলের  মতে সিঙ্গেল থাকায় অবসর সময়টাও দারুণ কেটে যায় তাঁর। তিনি বলেন, ‘নির্দ্বিধায় বই পড়ে কিংবা সিনেমার সাগরে ডুব দেওয়া যায়। কোনো কিছু করার না থাকলে ইচ্ছে মতো ঘুমোতে বাধা থাকে না।’

তাঁর কথা থেকেই স্পষ্ট যে, ডেটিং অ্যাপ আর ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটগুলোর যতোই প্রসার ঘটুক, সিঙ্গেল বা সম্পর্কে না থাকা ব্যক্তিরা জীবনে দারুণ সুবিধা উপভোগ করে থাকেন।

এমনকি সিঙ্গেল থাকা মানুষের সুবিধাগুলো জানার পর আপনি তাঁদের নিয়ে ঈর্ষাও করতে পারেন। জেনে নিন জীবনে সিঙ্গেল থাকার সুবিধাগুলো- 

সঙ্গীকে মুগ্ধ করতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় সিঙ্গেলদের থাকে না। ছবি: ফ্রিপিক

নিজের সব সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া 

সিঙ্গেলরা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের অন্য কারও পানে চেয়ে থাকতে হয় না। ক্লাস শেষে বিকালে তিনি কি কোনো আড্ডায় যোগ দেবেন নাকি বাড়ি গিয়ে নেটফ্লিক্সের সিরিজে ডুবে থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর।

ইচ্ছামত ঘোরা যায়

সিঙ্গেল মানুষ নিজের ইচ্ছামত ঘোরাফেরা করতে পারেন। 'ওখানে কেন গেলে, আমাকে নিয়ে গেলে না কেন, কার সঙ্গে দেখা হলো'-এমন প্রশ্নের ফিরিস্তি তাঁদের দিতে হয় না। ভালোবাসার মানুষ থাকলে এসব নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো।

নিজেকে হারিয়ে না ফেলা

আপনার প্রিয় শখ ছবি আঁকা, কিন্তু সঙ্গী চান আপনি অবসর সময়ে আইইএলটিএসের প্রস্তুতিতে নিয়োজিত থাকুন। সিঙ্গেল হলে কিন্তু এই দোটানায় আপনাকে পড়তে হবে না। কারণ, তাদের নিজেদের ইচ্ছামত ‘হবি’ বা শখ পূরণের সুযোগ থাকে। সঙ্গীকে মুগ্ধ করতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার বা সৃষ্টিশীল কাজ থেকে দূরে সরে যাওয়ার ভয় থাকে না। 

নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা

আপনার লেখালেখি ভালো লাগে। কিন্তু প্রেমিক বা প্রেমিকার দাবি, তাঁর পরিবারের খাতিরে আপনাকে করতে হবে সরকারি চাকরি। এমন পিছুটানে শেষ পর্যন্ত আপনার নিজের স্বপ্নই অধরা থেকে যাবে। সম্পর্কে না থাকা মানুষেরা তাই নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থাকার সুবিধা পেয়ে থাকেন।  

নেটওয়ার্কিং ভালো হয়

সামাজিকতা বা যোগাযোগ অর্থে আজকাল তরুণেরা 'নেটওয়ার্কিং' শব্দটি অনেক ব্যবহার করে থাকে। সিঙ্গেলরা নেটওয়ার্কিংয়ের অধিক সুযোগ পেয়ে থাকেন, যা দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের ব্যক্তিজীবন, ক্যারিয়ার ইত্যাদিতে সুফল আনে। কারণ, দিনশেষে তাঁদের কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না যে 'অমুকের সঙ্গে কেন মিশছ, তমুক প্রতিষ্ঠানে কেন গিয়েছ' ইত্যাদি। এমন চাপের কারণেই বোধহয় আশেপাশের অনেককে দেখবেন সম্পর্কে যাওয়ার পর সবকিছু থেকে কেমন যেন ‘গায়েব’ হয়ে গেছেন।

খরচ কম

সিঙ্গেলরা বিবাহিতদের তুলনায় আর্থিকভাবে চাপমুক্ত থাকেন। প্রেম করলে বাইরে খাওয়া, সিনেমা দেখা, ঘোরাফেরা, কেনাকাটা ইত্যাদির খরচ যোগ হবে। আর সেটা দু’পক্ষের ক্ষেত্রেই। তাছাড়া সম্পর্কে থাকা মানে একটা দায়িত্ববোধ ঘাড়ে এসে পড়া। অনেক সময় এই দায়িত্ববোধ ব্যক্তির ঝুঁকি নেওয়ার সাহস কেড়ে নেয়।

নিজেকে অগ্রাধিকার দেওয়া

সিঙ্গেলরা নিজের ব্যাপারে ফোকাস করতে পারেন এবং নিজের মতো চলতে পারেন। যেমন- নিজের পরীক্ষার পড়া রেখে সঙ্গীর এসাইনমেন্ট তৈরিতে সময় ব্যয় করতে হয় না তাদের। নিজের জন্য বাড়তি সময় পাওয়ায় তিনি শরীরচর্চায় ব্যস্ত হতে পারেন। ফলে স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

সিঙ্গেলরা বিবাহিতদের তুলনায় চাপমুক্ত থাকেন। ছবি: ফ্রিপিক

ঘুম ভালো হয়

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া যেকোনো সম্পর্কে বড় প্রভাব রাখে। ফেসবুক, ইন্সটাগ্রামে সঙ্গীকে নজরদারির একটা প্রবণতা এসময় সবার মধ্যেই কম-বেশি দেখা যায়। সঙ্গী কোন ছবি আপলোড দিল, কার ছবিতে লাইক-কমেন্ট করলো, রাতে কতক্ষণ অনলাইন থাকল এসব নিয়ে নানা অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, যে সিঙ্গেল তাঁর এমন কোনো ব্যাপারে মাথা ঘামাতে হয় না। তাঁর মেজাজ ভালো থাকে এবং ঘুমটা শান্তির হয়।

একা থাকা ভালো হলেও নি:সঙ্গতা কারো কাম্য নয়। কারণ, নিসঙ্গতা থেকে বিষণ্নতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই জীবনে চলার পথে উপযুক্ত মানুষটিকে পেলে তাঁর হাত ধরতে আপনাকে যেন দুইবার ভাবতে না হয় সেটিও মাথায় রাখবেন। 

তথ্যসূত্র: সাইকোলজি টুডে