চুপ থাকা মানেই হেরে যাওয়া নয়

কথায় বলে বোবার শত্রু নেই। কথাটি শতভাগ সত্যি। জীবনে আপনি এমন কিছু পরিস্থিতিতে পড়বেন যখন কথা বলার থেকে চুপ থাকাটাই উত্তম। আপনার এই নিশ্চুপ মুহূর্তই হয়ে উঠবে শক্তিশালী হাতিয়ার।

এটা ঠিক যে, কথা না বললে সমস্যাই অমীমাংসিত থেকে যায়। বাড়ে দু’জনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিও। তবে জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে তখন কথা বলার থেকে চুপ করে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনোবিদরাও এমনটাই মনে করেন। তাঁদের মতে, বিশেষ মুহূর্তে নিজের চিন্তাভাবনা বা অনুভূতিকে দমন করা উচিত। তবে সঠিক সময় হলে অবশ্যই মুখ খুলবেন।

নিজের মনের ভাবনা যদি আপনি গুছিয়ে প্রকাশ করতে না পারেন, তবে চুপ থাকাই ভালো। ছবি: ফ্রিপিক

মনোবিদদের মতে, এই ৬ পরিস্থিতিতে মুখ খোলাই ভালো। সেগুলো কী? জেনে নিন।

মাত্রাতিরিক্ত তর্কাতর্কি: দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হতেই পারে। তবে সেটা যদি মাত্রাতিক্ত হয় তবে সতর্ক হয়ে যায়। এই সময় চুপ থাকাটাই উত্তম। তর্কের সময় আবেগ এবং রাগ দুটিই এই সঙ্গে কাজ করে। তখন সে কী বলছে ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। সেই সময় আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগের সাথে হাতাহাতিও লেগে যেতে পারে। মনোবিদরা বলেন, এই সময়টাতে মানুষ অনেক বেশি আবেগ থাকে, তাই সেখানে যুক্তি বিশেষ পাত্তা পায় না।

পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে: যে বিষয় নিয়ে তর্ক চলছে, তা নিয়ে যদি আপনার জানাশোনা কম থাকে, তাহলে চুপ থাকা ভালো। না জেনে কথা বললে নিজের ভাবমূর্তিই নষ্ট হবে। সেই সঙ্গে নিজের গ্রহণযোগ্যতাও হারাবেন। ফলে খুব সহজেই কাবু হতে পারেন, তর্কতে। তাই নিজের ইমেজ ধরে রাখতে চাইলে কথা না বলাই উত্তম।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে: নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইলে কথা কম বলাই মঙ্গল। এতে নিজস্ব চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, কল্পনাশক্তি ইত্যাদি দৃঢ় হয়। সেই সঙ্গে বাড়ে মনের সৃজনশীলতা। তাছাড়া মানসিক সুস্থতার জন্য কম কথা বলা ভালো। এতে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

অন্যের কথাও শুনুন: কেউ যখন কথা বলবেন, তাঁর কথা শুনুন। কথার পৃষ্ঠে কথা না বললেই ভালো। মনোবিদদের মতে, সক্রিয় শ্রবণ মনের বিকাশ ঘটায়। তাই অপর জনের কথা শেষ হলে, তারপর নিজের মতামত দিন।

গুছিয়ে প্রকাশ প্রকাশ করতে না পারলে: নিজের মনের ভাবনা যদি আপনি গুছিয়ে প্রকাশ করতে না পারেন, তবে চুপ থাকাই ভালো। বিশেষ করে, কারো দুঃসংবাদে অনেকেই কীভাবে সহানুভূতি জানাবেন বুঝতে পারেন না। তখন চুপ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। শুধু শুধু তাঁকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলবেন না এবং নিজেও পড়তে যাবেন না।

নীরাবতায় আপনার উত্তর: নীরব থেকেও অনেক সময় নিজের মনের ভাব প্রকাশ করা যায়। চুপ থাকলে নেতিবাচক অনেক আলোচনা আপনি খুব সহজেই এড়িয়ে যেতে পারবেন। এতে কাউকে সরাসরি অসম্মানিত হতে হয় না।