‘ঘোস্টলাইটিং’ বলতে বোঝায় এমন কাউকে, যে হঠাৎ করে সম্পর্ক থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় (যেটাকে ঘোস্টিং বলা হয়)। আবার অনেকদিন পর ফিরে এসে এমনভাবে আচরণ করে যেন কিছুই হয়নি। শুধু তাই নয়, সে তখন এমনভাবে কথা বলে বা চালচলন করে, যাতে আপনি নিজেই সন্দেহ করতে থাকেন, আসলে কি ঘটেছিল, আপনি কি বাড়িয়ে দেখেছেন? এটিই গ্যাসলাইটিং। আর এই দুইয়ের মিশ্রণই হচ্ছে ‘ঘোস্টলাইটিং’।
এই সমস্যা কেন বাড়ছে?
ডেটিং অ্যাপ আর সোশ্যাল মিডিয়ার দাপটে মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিকল্প পাচ্ছে। কিন্তু সেইসঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা কমে যাচ্ছে। কেউ যদি সম্পর্কের কথা বললে হঠাৎ দূরে সরে যায়। আবার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে ফিরে আসে। তাহলেই বুঝবেন, বিষয়টা স্বাভাবিক না।
ঘোস্টলাইটিং লক্ষণ
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ রুচি রুহ জানিয়েছেন, ঘোস্টলাইটিংয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস হারান। কীভাবে বুঝবেন আপনি এই ফাঁদে পড়ছেন? জেনে নিন লক্ষণ।
- অস্থির আচরণ: একদিন খুব ঘনিষ্ঠ, পরের দিন পুরোপুরি অদৃশ্য। এই ‘হট-অ্যান্ড-কল্ড’ মুড খুব ক্লান্তিকর।
- অজুহাতের পাহাড়: হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়ে আবার ফিরে এসে বলে, ‘বেশি ব্যস্ত ছিলাম’ কিংবা ‘তুমি অতিরিক্ত সংবেদনশীল’।
- আপনাকেই দোষ দেয়: আপনি যদি অভিমান প্রকাশ করেন, তখন সে বলবে, ‘তুমি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছ’, ‘এত কিছু হয়নি’, ‘আমরা তো তেমন কিছুই ছিলাম না’।
- ভুল বুঝিয়ে দেয়: আপনি ভাবতে শুরু করেন, ‘আমি কী কিছু ভুল করেছি?’, ‘আমি কি বেশি আবেগী?’, এই সন্দেহই গ্যাসলাইটিংয়ের ফাঁদ।
- দায় এড়ানো: তারা কখনোই নিজেদের দোষ স্বীকার করে না। বরং আপনার প্রতিক্রিয়া নিয়েই কথা ঘোরায়।
কেন সচেতন থাকা জরুরি?
রুচি বলেন, ‘ঘোস্টলাইটিং মানুষকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। আপনি ধীরে ধীরে ভাবতে শুরু করেন, আপনি হয়তো অনেক বেশি চাইছেন। আসলে আপনি যা চাচ্ছেন, তা খুব স্বাভাবিক।’
নিজেকে রক্ষা করবেন কীভাবে?
- সম্পর্কের শুরুতেই দেখুন, প্রতি সপ্তাহে হঠাৎ গায়েব হয়ে যায় কি না।
- কেউ যদি বারবার একইরকম আচরণ করে, ক্ষমা চেয়ে পরিবর্তন না আনে, তবে দূরে থাকুন।
- নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। যদি বারবার আপনাকে দোষী প্রমাণ করা হয়, তবে সেটি ভালো সম্পর্ক নয়।
- নিজের ভালোবাসা বা যত্ন পাওয়ার অধিকার নিয়ে আপস করবেন না।
‘ঘোস্টলাইটিং’ যেন মানসিক নির্যাতনের মতো। তাই চোখ কান খোলা রাখুন, সময় থাকতে নিজের প্রতি সৎ থাকুন। কারণ, যে সম্পর্ক আপনাকে ছোট করে দেয়। সেটি কোনো সম্পর্ক নয়, তা থেকে নিজেকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।