ঘুমের আগে মোবাইল নয়, এই চার অভ্যাসে মেধাবী হবে সন্তান

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো জন্মের পর থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত। এই সময়েই শেখার ক্ষমতা, কল্পনাশক্তি, ভাষা বোঝা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ভিত তৈরি হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিকাশ আরও পরিণত হয়। তাই ছোট বয়স থেকেই যদি কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা যায়, তার সুফল পাওয়া যায় অনেক দিন পর্যন্ত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পড়াশোনা বা অঙ্ক করালেই শিশুর বুদ্ধি বাড়ে না। ঘুমানোর আগের সময়টুকুও মস্তিষ্কের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে। দিনের শেষের এই সময়টা কীভাবে কাটছে, তার ওপর নির্ভর করে সন্তানের মানসিক শান্তি, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা।

অনেক পরিবারেই এখন ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ট্যাব দেখার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। অথচ এই অভ্যাস শিশুর চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর। তার বদলে ঘুমের আগে কিছু সহজ কাজ নিয়মিত করালে সন্তান আরও মনোযোগী ও তুখোড় হয়ে উঠতে পারে।

গল্প বলুন

ঘুমানোর আগে গল্প শোনা শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়াতে দারুণ কাজ করে। মোবাইল বা ট্যাবের ব্লু লাইট মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে তোলে, ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই বিছানায় যাওয়ার সময় ডিজিটাল ডিভাইস নয়, হাতে তুলে দিন গল্পের বই। আড়াই থেকে তিন বছর বয়স থেকেই শিশুকে গল্প শোনানোর অভ্যাস করা যায়। গল্প শুনতে শুনতে নতুন শব্দ শেখে, চরিত্র বোঝে, ভালো-মন্দের ধারণা তৈরি হয়। সবচেয়ে বড় কথা, গল্প শোনা শিশুর মনকে শান্ত করে।

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

যখন সন্তান নিজে পড়তে শেখে, তখনও ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস চালু রাখুন। এই সময় আর বাবা-মাকে গল্প শোনাতে হবে না, বরং সন্তান নিজেই বই পড়বে। দিনে কয়েক পৃষ্ঠা হলেও নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস শিশুর ভাষাজ্ঞান বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা তৈরি করে। ছোট বয়স থেকেই এই অভ্যাস গড়ে উঠলে বড় হয়ে ঘুমের আগে মোবাইল ঘাঁটার প্রবণতা কমে যায়।

একসঙ্গে গল্প করুন

ছোট বয়সে অনেক বাবা-মাই সন্তানের সঙ্গে একই ঘরে বা একই বিছানায় ঘুমোন। এই সময়টা কাজে লাগানো যায় সম্পর্ক মজবুত করার জন্য। সারাদিন স্কুলে কী করল, কী ভালো লাগল, কী খারাপ লাগল, এসব নিয়ে গল্প করুন। পরের দিন স্কুলে কী কী কাজ আছে, সেটাও আলোচনা করা যেতে পারে। দিনের শেষে এই খোলামেলা কথা বলা শিশুর মানসিক নিরাপত্তা বাড়ায়। বাবা-মায়ের সঙ্গে আবেগের বন্ধন দৃঢ় হলে শিশুর আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।

মেডিটেশন বা ধ্যানের অভ্যাস করান

ঘুমানোর আগে হালকা মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন শিশুর মন শান্ত করতে সাহায্য করে। পাঁচ মিনিট থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে ১০ মিনিট পর্যন্ত করানো যেতে পারে। এতে অস্থিরতা কমে, মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ে। নিয়মিত ধ্যানের অভ্যাস থাকলে পড়াশোনায় মন বসে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ঘুমানোর আগের কিছু সাধারণ অভ্যাসই সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট বয়সে যা শেখানো হয়, সেটাই সারা জীবনের পাথেয় হয়ে ওঠে। তাই আজ থেকেই ঘুমের আগে মোবাইল নয়, এই চারটি অভ্যাসে ভরসা রাখুন।