প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক কী? আপনি কি এমন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন?

সামাজিক মাধ্যমের এই সময়ে তারকা, ইনফ্লুয়েন্সার বা পডকাস্ট হোস্টদের অনেক সময় খুব কাছের মানুষ মনে হয়। প্রতিদিনের ভ্লগ, ইনস্টাগ্রাম স্টোরি বা লাইভ ভিডিওতে তাদের জীবনের নানা মুহূর্ত দেখা যায়। এতে ধীরে ধীরে দর্শকের মনে এক ধরনের ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি তৈরি হয়। তবে এই ঘনিষ্ঠতা বেশির ভাগ সময়ই একপাক্ষিক। এখান থেকেই আসে প্যারাসোশ্যাল সম্পর্কের ধারণা।

প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক কী?

প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক হলো এমন এক ধরনের একতরফা আবেগের সম্পর্ক। যেখানে কোনো ব্যক্তি কোনো তারকা, কনটেন্ট নির্মাতা বা কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে গভীর আবেগগত সংযোগ অনুভব করেন। যদিও বাস্তবে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ থাকে না।

এই ধারণাটি প্রথম তুলে ধরেন সমাজবিজ্ঞানী ডোনাল্ড হর্টন ও রিচার্ড ওহ্‌ল। ১৯৫০–এর দশকে তারা টেলিভিশনের উপস্থাপকদের সঙ্গে দর্শকদের মানসিক সংযোগ বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন এই প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। কারণ অনেক কনটেন্ট নির্মাতা তাদের ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়মিত শেয়ার করেন। ফলে দর্শকদের মনে হয়, তারা যেন সেই মানুষটিকে খুব ভালো করে চেনেন।

ধরা যাক, আপনি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট ইউটিউবারের ভিডিও দেখেন। সময়ের সঙ্গে মনে হতে পারে, তার ব্যক্তিত্ব, জীবনযাপন বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপনি অনেক কিছু জানেন। তখন তার সাফল্য, সম্পর্ক বা বিতর্কও আপনার কাছে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে হতে পারে।

একাকিত্বের সঙ্গে সম্পর্ক

গবেষণায় দেখা গেছে, একাকিত্বের অনুভূতির সঙ্গে প্যারাসোশ্যাল সম্পর্কের একটি সম্পর্ক আছে। যারা সামাজিকভাবে নিজেকে একা মনে করেন, তারা অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তারকা বা কনটেন্ট নির্মাতাদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন।

তাদের নিয়মিত অনুসরণ করতে করতে অনেকের মনে হতে পারে, যেন এই মানুষটি তার বন্ধু বা সঙ্গী। যদিও বাস্তবে সেই সম্পর্কটি একতরফাই।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ক কখনো কখনো বাস্তব জীবনের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা তৈরি করতে পারে। এতে অনেক সময় মানুষের মনে অসন্তুষ্টি বা দূরত্বের অনুভূতি জন্ম নিতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি এমন সম্পর্কে আছেন

সব ধরনের ভক্তি বা পছন্দ কিন্তু প্যারাসোশ্যাল সম্পর্ক নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে বোঝা যেতে পারে বিষয়টি একটু বেশি গভীর হয়ে গেছে। যেমন, কোনো তারকার ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা আপনার মেজাজে বড় প্রভাব ফেলছে। ধরুন কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের সম্পর্ক ভাঙা, বিতর্ক বা ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্তে আপনি খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছেন।

আরেকটি লক্ষণ হলো, আপনি মনে করছেন ওই মানুষটিকে আপনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। যদিও বাস্তবে কখনো তার সঙ্গে কথা হয়নি। এছাড়া অনেকেই প্রিয় তারকাকে রক্ষা করতে খুব তীব্রভাবে তর্ক করেন বা তার জীবনের প্রতিটি আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করেন।

বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প নয়

মানুষের জীবনে বাস্তব সম্পর্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। মুখোমুখি কথা বলা, পারস্পরিক অনুভূতি ভাগাভাগি করা, এসবই মানুষের মানসিক সুস্থতার জন্য দরকার।

বিনোদনের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা স্বাভাবিক। তবে যদি তা বাস্তব সম্পর্কের বিকল্প হয়ে ওঠে, তখন নিজের জীবনযাপন ও সামাজিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন হতে পারে।