দুই দিনের অবরোধে পুড়ল ২১ গাড়ি

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দ্বিতীয় দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২১ টি যানবাহন পুড়িয়েছে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে রাজধানীতে। 

সোমবার বিকেলে ফায়ার সার্ভিস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত রোববার ভোর ৪টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগুনের এ ঘটনাগুলো ঘটেছে। রাজধানী ছাড়া ঢাকা বিভাগের তিন জেলা গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও নারায়ণগঞ্জে পোড়ানো হয়েছে ৪টি, চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়ি, আনোয়ারা ও পটিয়ায় ৪টি ও রাজশাহী বিভাগের বগুড়ায় ১টি। 

আগুনে পুড়ে যাওয়া যানবাহনগুলোর মধ্যে আছে ১৫টি বাস, ২টি ট্রাক, ১টি প্রাইভেটকার, ১টি সিএনজি ও ১টি লেগুনা। 

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিনের বেলা থেকে রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এই ২ দিনে মোট ২১টি আগুনের মধ্যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৬ টি আগুনের ঘটনা ঘটে এবং বাকি ৫টি দিনের অন্যান্য সময় সংঘটিত হয়েছে। 

গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১১০টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে। এতে বলা হয়, এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর ১টি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি, ২ নভেম্বর ৭টি, ৪ নভেম্বর ৬টি, ৫ নভেম্বর ১৩টি ও ৬ নভেম্বর ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও। 

বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন প্রায় অর্ধশত। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।

ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

তাদের এ অবরোধের শেষদিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন করে রোববার ও সোমবার অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। প্রতিবারের মতো এবারও এই অবরোধে নিজেদের সমর্থন জানিয়ে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার দ্বিতীয় দফা অবরোধ কর্মসূচি শেষে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার আবারও অবরোধের ডাক দিয়েছে দলটি। 

এসব ঘটনায় উসকানি, নাশকতা ও আগুন দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কজন নেতাকে।