টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকবে না: কাদের

টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ পাওয়া মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকছেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোববার বিকেল রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের প্রচার উপকমিটির বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, ‘যে সরকার র‌য়ে‌ছে সেই সরকা‌রই নির্বাচনকালীন সরকার হবে। ত‌বে এখানে কোনো টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও উপ‌দেষ্টা থাকতে পারবে না।’

বর্তমান মন্ত্রিসভায় দুইজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী আছেন। এঁরা হলেন—ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

এছাড়াও মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আছেন ৬ জন। এঁরা হলেন—তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। 

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে সিইসি জানান, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি।

তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।

এবার নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার আকার কাটছাট করা হবে না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৩১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভারত, কানাডা, ইংল্যান্ডে যেভাবে হয় সেভাবে হবে। আরপিও ডিক্লেয়ার করার পর মন্ত্রীরা কোনো সুযোগ ব্যবহার করতে পারবে না। প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে হবে। ২০১৮ তেও তাই হয়েছিল। নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হলে কোনো মন্ত্রী ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে না। শুধু রুটিন ওয়ার্ক করবে।’ 

এ সময় নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আসছে না বলেও ইঙ্গিত দেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘আকার ছোট করলে অনেক মন্ত্রণালয়ের কাজ হয়না। উন্নয়ন যাতে অব্যাহত থাকে সেটাই প্রচেষ্টা। উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় তাই যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলবে।’

প্রথম ভোটার হওয়া তরুণরাই টার্গেট

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম ভোটার হওয়া তরুণদের ভোট টানা আওয়ামী লীগের টার্গেট বলে মন্তব্য করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশের মানুষ গণজাগরণের ঢেউ তুলেছে। নির্বাচন নিয়ে জনগণের আগ্রহ প্রবল। মানুষ নির্বাচন নিয়ে কতটা আজকে স্বতঃস্ফূর্ত এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম ভোটার হওয়া তরুণ শ্রেণি আমাদের প্রধান টার্গেট।’

বিএনপির হরতাল–অবরোধের সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘এখন বাংলাদেশে বিরোধী দলের নির্বাচনের বাইরে যে রাজনীতি সেটা বিরোধী রাজনীতি নয়, সেটা গঠনমুলক সমালোচনা নয়- এটা স্রেফ নাশকতা। নাশকতার এই কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। রাতে স্টেশনে থাকা ট্রেনে আগুন দেয়া হচ্ছে। চোরাগোপ্তা হামলা- এই রাজনীতি প্রতিহত ও প্রতিরোধ করতে হবে।’