সোমালি জলদুস্যুদের কবল থেকে মুক্ত জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ সোমবার সকালের মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে পারে। জোয়ার অনুকূলে থাকলে আগামীকাল সোমবারই রাত ১০ টার মধ্যে কক্সবাজারের কতুবদিয়া নোঙর করতে পারে জাহাজটি, এমনটি জানিয়েছেন জাহাজে থাকা নাবিক ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদ।
ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদ জানান, কিছু পণ্য খালাস করে এমভি আবদুল্লাহ চট্টগ্রাম ফিরবে সামনের বৃহষ্পতিবার সকালে।
আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে গত ১ মে চট্টগ্রামের উদ্যেশে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ। দীর্ঘ ১২ দিন পর রোববার দুপুরে জাহাজটি বঙ্গোপসাগরের জলসীমা অতিক্রম করতে শুরু করে।
জাহাজের অবস্থান নির্ণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিক বলছে, ‘জাহাজটির ১০ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছিল।
জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ২৩ নাবিককে নিয়ে রোববার এমভি আবদুল্লাহ বাংলাদেশি জলসীমা থেকে রোববার দুপুরে ২০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল বলে জানান জাহাজে থাকা ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদ। এই গতিতে চললে কাল সকালের মধ্যে বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে যাবে।
জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিংয়ের সিইও মেহেরুল করিম শনিবার ইনডিপেনডেন্টকে জানিয়েছিল, ‘জাহাজটি সোমবার মধ্যরাতে বা মঙ্গলবার ভোরে কুতুবদিয়া নোঙর করতে পারে।’
তবে জাহাজে থাকা ক্যাপ্টেন আব্দুর রশীদ রোববার দুপুরে ইনডিপেনডেন্টকে জানান, সমুদ্রে জোয়ার অনুকূলে থাকলে জাহাজ ১৩ মে সোমবার রাতে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পৌঁছাবে। সেখানে সাড়ে ১০ হাজার টন চুনাপাথর খালাস শেষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় আসবে এমভি আব্দুল্লাহ। ১৬ মে বৃহষ্পতিবার সকালে পতেঙ্গায় নোঙর করতে পারে বলে তিনি জানান।
তবে, কতুবদিয়ে থেকে ২৩ নাবিকের চট্টগ্রাম ফেরা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি। ক্যাপেন আব্দুর রশীদ এমভি আব্দুল্লাহ করে ১৬ মে চট্টগ্রাম ফেরার কথা জানালেও এস আর শিপিং অন্য জাহাজে করে ১৬ মে'র আগেই ২৩ নাবিককে চট্টগ্রাম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরা বন্দর থেকে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেয় সোমালি জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে সোমালি জলদস্যুর কবলে পড়ে এমভি আব্দুল্লাহ। প্রায় এক মাস পর জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয় জাহাজটি।