এমপি আজীম খুন: তিন আসামির ৮ দিন করে রিমান্ড 

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

রিমান্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, সেলেস্তা রহমান ও তানভির ভূঁইয়া।

এর আগে, তাদের আদালতে আনা হলে তদন্তকারী সংস্থা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। 

আনোয়ারুল আজীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা পুলিশ বুধবার জানায়, আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আনোয়ারুল আজীম ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর  স্ত্রী ফেরদৌস ইয়াসিন শেফালী ও ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন কালীগঞ্জে থাকেন। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা দুজনেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদের বড় মেয়ে অরিনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আলাদা থাকেন। 

এ ঘটনার পর বুধবার সংসদ সদস্য আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘গত ১৩ মে বাবার ইন্ডিয়ান সিম নম্বর +৯১৭০৬৩২১৪৫৬৯ থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসে, “আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সাথে ভিআইপি আছে। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দিব।” এটা ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাসেজ আসে। সেই ম্যাসেজগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’

ডিবি বলছে, ১৩ মে তারিখেই কলকাতায় হত্যা করা হয় আজীমকে। তবে তাঁর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মরদেহ বিভিন্ন পার্টে ভাগ করে ফেলেছে। অর্থাৎ, হাড্ডি আর মাংস আলাদা করে ফেলেছে। সেটা একটা গ্রে কালারের সুটকেসে করে মুল যে, আমাদের কাছে যিনি আছেন, উনি আর হলো জাহিদ বা জিহাদ এরা দুজন সুটকেসে করে পাবলিক টয়লেটের কাছে একটা গাড়ি অপেক্ষা করছিল সেখানে নিয়ে যায়।’

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে জিহাদ হাওলাদার নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। শুক্রবার তাকে বারাসাত আদালতে নিয়ে ১৪ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে ১২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, শুক্রবার বারাসাত আদালতে জিহাদকে হাজির করা হলে তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। এ সময় জিহাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। 

সিআইডি সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করার পর জিহাদকে ভাঙড়ের একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এমপি আজীমকে খুনের পর সেখানেই দেহের অংশ ফেলা হয়েছে বলে জেরায় উঠে এসেছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেখান থেকে কোনও দেহাংশই মেলেনি। 

আরও পড়ুন: