এমপি আজীম হত্যা: যা বলছেন মেয়ে ডরিন

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যায় প্রতিপক্ষ কাউকে সন্দেহ করছে না তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান শাহীনকে গ্রেপ্তার করলেই অনেক অমিমাংশিত প্রশ্নের জবাব মিলবে। শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহের নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আজীম কন্যা ডরিন। 

ভারতের কলকাতায় আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ড এখন সারা দেশেরই আলোচিত বিষয়। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা পুলিশ বুধবার জানায়, আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আনোয়ারুল আজীম ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর  স্ত্রী ফেরদৌস ইয়াসিন শেফালী ও ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন কালীগঞ্জে থাকেন। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা দুজনেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদের বড় মেয়ে অরিনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আলাদা থাকেন। 

এ ঘটনার পর বুধবার সংসদ সদস্য আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘গত ১৩ মে বাবার ইন্ডিয়ান সিম নম্বর +৯১৭০৬৩২১৪৫৬৯ থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসে, “আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সাথে ভিআইপি আছে। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দিব।” এটা ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাসেজ আসে। সেই ম্যাসেজগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বলছে, ১৩ মে তারিখেই কলকাতায় হত্যা করা হয় আজীমকে। তবে তাঁর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি।

আজীম অপহরণ মামলার এজাহারে কারও নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, কাউকেই সন্দেহ করতে পারছেন না তিনি। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ রয়েছে।

ডরিন বলেন, ‘পুলিশের কাছে অবশ্যই রিপোর্ট আছে। সেই রিপোর্টের সাপেক্ষে তাকে (আক্তারুজ্জামান শাহীন) যখন অ্যারেস্ট করা হবে তখন আরও রিপোর্ট বেড়িয়ে আসবে। এখন নাম অজ্ঞাত আছে। তখন মামলা হয়ে যাবে। সে প্রক্রিয়াতেই আমি মামলা করেছি।’ 

কলকাতার যে অ্যাপার্টমেন্টে আজীমকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সেটির মালিকের নাম 
সঞ্জীব রায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের শুল্ক দপ্তরের একজন কর্মকর্তা।

গত বুধবার ভারতীয় সিআইডি জানিয়েছিল, অ্যাপার্টমেন্টটি সঞ্জীব রায়ের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান শাহীন নামের একজন বাংলাদেশি আমেরিকান। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভা মেয়র সেলিমের ছোট ভাই। সেলিমের সঙ্গে আজীমের ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সে সূত্র ধরেই শাহীনের সঙ্গেও আজীমের পরিচয় হয়।

ধারণা করা হচ্ছে আখতারুজ্জামান শাহীনের পরিকল্পনাতেই আজীমকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক শাহীন। আজীমের মেয়ে ডরিনের দাবি, তাঁকে গ্রেপ্তার করলেই করলেই বেরিয়ে আসবে মূল ঘটনা।

ডরিন বলেন, ‘কান টানলেই মাথা আসবে। তাকে ধরা হোক। এর ওপর যদি নেপথ্যে কেউ থাকে, যদি কোনো পরিকল্পনাকারী থাকে, থাকতেই পারে। রাজনীতি করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকতে পারে না? থাকলে সেটাও বেড়িয়ে আসবে। এটা খতিয়ে দেখার জন্যই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি।’ 

বাংলাদেশি গোয়েন্দারা বলছেন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর এলাকাটি হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য। আজীমকে হত্যার পেছনে এ ধরনের কোনো ঘটনার জের ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আজীমের স্বর্ণচোরালানে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ প্রশ্নে মেয়ে ডরিন বলছেন, সবার আগে তার মরদেহ উদ্ধার করা হোক।

মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বলেন, ‘আমার বাবা তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি আজকে এই কালীগঞ্জ শহরে ৩৫ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। ৩৫ বছর ধরে ভোট করছেন। জনসাধারণের সঙ্গে মিশছে। আপনারা কখনও খতিয়ে দেখেন নি? সংসদ ভোটের সময় আপনারা দেখেন নি? আমার বাবা নিখোঁজ, এটা আগে উদ্ধার করেন।’ 

এদিকে টানা তিনবারের এই সংসদ সদস্যর মৃত্যু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।