ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমকে হত্যার পর তার হাড় ও মাংস আলাদা করার কাজটি করেছিলেন ‘কসাই’ জিহাদ হাওলাদার। কলকাতা পুলিশের কাছে এই হত্যায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে জিহাদ।
এদিকে, এমপি আজীমের দেহাবশেষের খোঁজে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ভারতের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ। এখন অভিযান চলছে হাতিশালার বর্জ্য খালে।
কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের সিসিটিভি পর্যালোচনা করে পুলিশ বলছে, গত ১৩ মে দুপুর ২টা ৫৩ মিনিটে ফ্ল্যাটে ঢুকতে দেখা যায় এমপি আজীমকে। এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও দুই ব্যক্তি। জানা গেছে, তাদের একজন শাহিন ভূইয়া।
এর ২৬ ঘণ্টা পর গত ১৪ মে বিকেল ৫টা ১১ মিনিটে একটি স্যুটকেস হাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দেখা যায় শাহিনকে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সুটকেসেই ছিল এমপি আজিমের খণ্ডিত মরদেহ। পরে আরও কটি ব্যাগ হাতে বের হতে দেখা যায় ফয়সালকে। পরে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করেন শাহিন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওয়ারি জোনের এক ডিবি কর্মকর্তা বলছেন, এই ফ্ল্যাটেই হত্যা করা হয় এমপি আনোয়ারুল আজীমকে।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার জিহাদকে সঙ্গে নিয়ে ভাঙর এলাকার কৃষ্ণমাটিসহ আশপাশের এলাকায় চলে এমপি আজীমের দেহাবশেষের খোঁজে অভিযান। পরে শুক্রবার সকালে একাজে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় ভারতের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ।
পুলিশ বলছে এমপি আজিমকে হত্যায় খুলনার জিহাদ হাওলাদারকে কলকাতায় আনা হয় মুম্বাই থেকে। সেখানে একটি মাংসের দোকানে কসাইয়ের কাজ করতেন ২৪ বছরের এই তরুণ। আজীমকে হত্যার পর তার হাড়-মাংস আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। আর এ কাজ জিহাদই করেছেন বলে দাবি কলকাতা পুলিশের।
আনোয়ারুল আজীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা পুলিশ বুধবার জানায়, আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আনোয়ারুল আজীম ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর স্ত্রী ফেরদৌস ইয়াসিন শেফালী ও ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন কালীগঞ্জে থাকেন। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা দুজনেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাদের বড় মেয়ে অরিনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আলাদা থাকেন।
এ ঘটনার পর বুধবার সংসদ সদস্য আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘গত ১৩ মে বাবার ইন্ডিয়ান সিম নম্বর +৯১৭০৬৩২১৪৫৬৯ থেকে উজির মামার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি ম্যাসেজ আসে, “আমি হঠাৎ করে দিল্লি যাচ্ছি, আমার সাথে ভিআইপি আছে। আমাকে ফোন দেওয়ার দরকার নাই। আমি পরে ফোন দিব।” এটা ছাড়াও আরও কয়েকটি ম্যাসেজ আসে। সেই ম্যাসেজগুলো আমার বাবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা করে থাকতে পারে।’
গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) বলছে, ১৩ মে তারিখেই কলকাতায় হত্যা করা হয় আজীমকে। তবে তাঁর মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মরদেহ বিভিন্ন পার্টে ভাগ করে ফেলেছে। অর্থাৎ, হাড্ডি আর মাংস আলাদা করে ফেলেছে। সেটা একটা গ্রে কালারের সুটকেসে করে মুল যে, আমাদের কাছে যিনি আছেন, উনি আর হলো জাহিদ বা জিহাদ এরা দুজন সুটকেসে করে পাবলিক টয়লেটের কাছে একটা গাড়ি অপেক্ষা করছিল সেখানে নিয়ে যায়।’
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে গ্রেপ্তার জিহাদকে শুক্রবার কলকাতার বারাসাতের আদালতে তোলা হয়। এ সময় তাকে ১২ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, শুক্রবার বারাসাত আদালতে জিহাদকে হাজির করা হলে তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। এ সময় জিহাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল।


কসাই দিয়ে হাড়-মাংস আলাদা করা হয় এমপি আজীমের
কসাইয়ের মুখে এমপি আজীম হত্যার বীভৎস বর্ণনা
এমপি আজীম হত্যা: ‘কসাই’ জিহাদের ১২ দিনের রিমান্ড
