এমপি আজীম হত্যা

‘আমি কীভাবে আসামি হলাম?’, প্রশ্ন সেলেস্তা রহমানের

‘আমি কীভাবে আসামি হলাম?’ আদালত কক্ষে প্রশ্নটি তুলেছেন সেলেস্তা রহমান। ঝিনাইদহ–৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম হত্যায় গ্রেপ্তার সেলেস্তা রহমানের কাছ থেকে ওকালতনামায় সই নিতে গেলে তিনি কেঁদে ফেলেন। এ সময় তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

ঝিনাইদহ–৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামির রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয় শুক্রবার। বিকেলে শুনানি শেষে তিনজনেরই আটদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত।

শুনানির শুরুতে সেলেস্তা রহমানের কাছে এক আইনজীবী ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে যান। তখন আদালতে কেঁদে ফেলেন সেলেস্তা। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ওকালতনামায় স্বাক্ষর দিবো কেন? আমি কীভাবে আসামি হলাম। আমি শুধু ওই বাসায় ছিলাম। তাছাড়া কিছুই জানি না।’

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ (৫৬), তানভীর ভূঁইয়া (৩০) ও সেলেস্তা রহমান (২২)।

শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান। শুনানিতে আসামি পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানির শুরুতে আসামিদের কাছ থেকে ওকালতনামায় সই নেওয়া হয়। তবে সেলেস্তা রহমান সই না করায় তাঁর রিমান্ড বাতিলের বিষয়ে শুনানি হয়নি। পরে আদালত তিন আসামির ৮ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে থেকে নিখোঁজ হন এমপি আজীম। আনোয়ারুল আজীমের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। ১৩ মে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে জানান, দিল্লি যাচ্ছেন। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কলকাতা পুলিশ বুধবার জানায়, আজিম খুন হয়েছেন। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানও জানান, সংসদ সদস্য আজীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আনোয়ারুল আজীম ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর  স্ত্রী ফেরদৌস ইয়াসিন শেফালী ও ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন কালীগঞ্জে থাকেন। তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা দুজনেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। আজীমের বড় মেয়ে অরিনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি আলাদা থাকেন।

এ ঘটনার পর বুধবার সংসদ সদস্য আজীমের খোঁজ চেয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় মামলা করেন তাঁর মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। হত্যায় জড়িত সন্দেহে ওই দিনই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: