কলকাতায় সেপটিক ট্যাংক থেকে উদ্ধার হওয়া মাংসের ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত ফল পাওয়া নিয়ে সংশয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান। তাঁর মতে, ২ সপ্তাহ আগে সেপটিক ট্যাংকে ফেলা মাংসের ফরেনসিক পরীক্ষায় জটিলতা আছে। তবে চুল বা হাড় পরীক্ষায় মৃত্যুর অনেক দিন পরও নিশ্চিত ফল পাওয়া সম্ভব। এদিকে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের মেয়ে।
এমপি আজীম হত্যাকাণ্ড তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের দল কলকাতায় যায়।
২৮ মে বিকেলে কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীব গার্ডেনের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রায় ৪ কেজি মাংসের টুকরা উদ্ধার করে বাংলাদেশের ডিবি পুলিশ ও কলকাতার সিআইডি। তবে তা এমপি আজীমের মরদেহের অংশ কিনা, তা নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলছেন গোয়েন্দারা।
উদ্ধার হওয়ার মাংস পরীক্ষার ফলে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান। তাঁর মতে, দুই সপ্তাহ আগে সেপটিক ট্যাংকে ফেলা মাংসের ফরেনসিক পরীক্ষার সফলতা নিয়ে জটিলতা আছে।
ঢামেক হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. কাজী গোলাম মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘মাংসপেশি কী অবস্থায় পেয়েছে, সেগুলো যদি পচে না হয়, তাহলে ডিএনএ অ্যানালাইসিস প্রোফাইলিং করা সম্ভব। কিন্তু যদি পচে যায়, সে ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষা করা দুরূহ কাজ।’
তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রে লেগে থাকা রক্ত, মরদেহের হাড় বা চুল দিয়ে অনেক দিন পরও ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত ফল পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।
ডা. কাজী গোলাম মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘ছুরি, চা পাতি, কিছু দিয়ে তো কাটা হয়েছে। এসব যন্ত্রপাতিতে রক্তের ছাপ অনেক সময় পর্যন্ত লেগে থাকে। এটা যদি বাতাসে শুকায় সেটা সহজে পচে যায় না। সেগুলো থেকে যদি রক্ত সংগ্রহ করা যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।’
এদিকে এমপি আজীমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।
ডরিন বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষা নিয়ে এখনও আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তবে মাংস উদ্ধারের বিষয়ে গণমাধ্যমে যা জানা যাচ্ছে সেটি অবশ্যই ডিএনএ পরীক্ষা না হলে আমরা সঠিক প্রমাণ হিসেবে মেনে নিতে পারব না।’
ভিসা পেলে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য দ্রুত কলকাতায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন এমপি আজীমের মেয়ে ডরিন।