নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকরা। হত্যা-প্রতারণা-অনলাইন জুয়াসহ নানা মামলায় এক বছরে গ্রেপ্তার ৫৩ জন। খুন-ধর্ষণের মতো অপরাধও করছেন বাংলাদেশিদের যোগসাজশে।
এ ছাড়া পারিবারিক ও বিয়ের ভিসায় চীনে গিয়ে পাচারের শিকার অনেক বাংলাদেশি নারী। স্থানীয়দের যোগসাজশে বাসা ভাড়া নেওয়ায় পুলিশের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে অনেকের তথ্য।
সম্প্রতি কক্সবাজারে একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে চীনের ছয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মামলায় জব্দ করা হয় ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ নানা সরঞ্জাম।
এবছরই উত্তরার একটি বাসা থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণীকে। পাচারের উদ্দেশে তাকে আটকে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এক বাংলাদেশি ও দুই চীনা নাগরিক।
এর আগে গতবছর উত্তরার একটি বাসায় পাওয়া যায় চীনের ওয়াং বো-র মরদেহ। তদন্তে জানা যায়, পুরোনো বিরোধের জেরে চীন থেকে এসে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় খুনিরা।
পুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এবছর ১০ আগস্ট পর্যন্ত নানা অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৩ জন চীনা নাগরিক। হত্যাসহ অন্তত ২০টি মামলার আসামি আরো চীনা নাগরিককে খুঁজছে পুলিশ।
পুলিশের বিশেষ শাখা-এসবির তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক ও বিয়ের ভিসায় গত ৫ বছরে চীনে গেছেন ৪ হাজার ২২৬ জন বাংলাদেশি নারী। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালে হঠাৎ বেড়েছে কিউ-ওয়ান ভিসায় দেশটিতে যাওয়ার প্রবণতা।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বিয়ের নামে চীনে যাওয়া নারীদের অনেকেই আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের শিকার।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ে নিয়ে কাজ করে, এমন ব্যক্তিদের তারা নিয়োগ করে। বিনিয়োগ করে, বিয়ে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ডকুমেন্টস আসল হয় না। বিয়ে করে কিছু মেয়েকে নিয়ে যায় তারা।
রাজধানীর উত্তরায় বিদেশি নাগরিকদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে দাবি পুলিশের। বিমানবন্দর সংলগ্ন, অনেক পোশাক কারখানা-বায়িং হাউজ এবং সহজে বাসাভাড়া পাওয়ায় এলাকাটিতে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি তারেক বেগ বলেন, বেশ কিছু কেস আমরা উদঘাটন করেছি। বিয়ের নামে নারীদের পাচার করার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। কিছু ভুক্তভোগী উদ্ধারও করা হয়েছে।
উত্তরায় বর্তমানে অন্তত ১০ হাজার চীনা নাগরিকের বসবাস।



