ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে নেপাল যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিআইডি। চলতি সপ্তাহেই সিআইডির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল সেখানে যাবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, আনারের ঘনিষ্ঠ আখতারুজ্জামান শাহীন। তিনি আমেরিকার নাগরিক। নিউটাউনের অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটটি গত ২০১৮ সালে ভাড়া নেন আখতারুজ্জামান। সেখানেই সম্ভবত খুন করা হয় সাংসদকে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, খুনের পরই দেশ ছাড়েন আখতারুজ্জামান। তাঁর খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। সম্ভবত প্রথমে কলকাতা থেকে তিনি নেপালে যান। সেখান থেকে পালিয়ে আখতারুজ্জামান দুবাই কিংবা আমেরিকাতেও গা ঢাকা দিতে পারেন বলেও মনে করা হচ্ছে। এছাড়া আরেক অভিযুক্ত সিয়ামও সম্ভবত নেপালে চলে গিয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
এদিকে এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরবেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদ। গত রোববার তাঁর নেতৃত্বে কলকাতা যায় তিন সদস্যের একটি টিম। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- ওয়ারি বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও এডিসি শাহীদুর রহমান। মহানগর গোয়েন্দা প্রধান জানান, শাহীনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে আবেদন করা হবে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতার সঞ্জীব আবাসনের সেই ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক থেকে কিছু মাংস উদ্ধার করে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি। উদ্ধার হওয়া মাংসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার পর ডিএনএ টেস্ট করা হবে বলে জানান ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, এই পরীক্ষাগুলোর পর মাংসের টুকরোগুলো এমপি আনারের কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হারুন অর রশীদ বলেন, ডিএনএ টেস্টের জন্য এমপি আনারের কন্যা বা ভাইদের কাছ থেকে স্যাম্পল নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে এমপি আনারের কন্যা মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনকে কলকাতায় ডাকা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে ডরিন কলকাতায় আসতে পারে বলেও জানান তিনি।