সাভানা পার্ক ডিসির নিয়ন্ত্রণে, মাছ বিক্রির অভিযোগে মামলা

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সাভানা পার্কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এখন থেকে স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পার্কটি চলবে। পার্কের পুকুরের ৫৯০ কেজি মাছ চুরি করে বিক্রির অভিযোগে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

এদিকে, বেনজীরের রিসোর্ট হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের ভাওয়াল রিসোর্টেও শিগগরিই অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গোপালগঞ্জে ৬২১ বিঘা জমির ওপর গড়ে তোলা সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কটি এখন জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে পার্কটিতে এখনও দর্শনার্থী প্রবেশের অনুমতি মেলেনি।

পার্কটির তত্ত্বাবধান প্রশাসন নেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পার্কের নামে দখল করা জমি ফেরত দেয়ার দাবি তাদের।  

এদিকে, পার্কের পুকুর থেকে গোপনে ৫৯০ কেজি মাছ বিক্রির ৮৩ হাজার টাকা জব্দ করে জমা দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। একই সঙ্গে গোপনে মাছ বিক্রি দায়ে পার্কের মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের নামে মামলা করেছে দুদক।

গোপালগঞ্জ দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘এখানকার যত আয় আছে একটি অ্যাকাউন্টে জমা হবে, পরবর্তীতে বিচার হওয়ার পরে আয় বির্হিভুত সম্পত্তি হলে বাজেয়াপ্ত হবে। আর যদি আসামি পক্ষ জিতলে আসামি ফিরে পাবে।’

আদালতের নির্দেশে রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে সাভানা পার্কের ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘ এই সম্পদের তিনটি পার্ট রয়েছে, যেটা হলো পকুর বা জলমহল সেটা দেখবে জেলা মৎস্য অফিস, কৃষিজমি সেটা দেখবে জেলা কৃষি বিভাগ এবং রিসোর্ট দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসক।

এদিকে, গাজীপুরের ভাওয়াল রিসোর্টের দখলে থাকা ৩ দশমিক ৬৮ একর বনভূমি চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ঈদের আগেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। 

শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও দুদকের দুটি দল সাবেক সাভানা পার্কের নিয়ন্ত্রণে বুঝে নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাইকিং করে পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ঘোষণা দেয় তারা।