বেনজীরের পর এবার তাঁর স্ত্রী ও তিন মেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকে সময় আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খোরশের আলম খান। ২৪ জুন তাদের হাজির হওয়ার সময় দিয়েছে দুদক। রোববার গণমাধ্যম কর্মীদের এই তথ্য দেন তিনি।
দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও ৩ মেয়ের পক্ষ থেকে ৫টি চিঠি দেয়া হয়েছে দুদকে। এরই মধ্যে বেনজীরকে ৬ জুনের পরিবর্তে ২৩ জুন হাজির হতে বলা হয়েছে। আর তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে দুদকে হাজির হতে হবে ২৪ জুন।’
এদিকে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অভিযোগ, বেনজীরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে সরকার। তাদের দাবি, গায়েবি চিঠির মাধ্যমে বেনজীরকে সময় বাড়িয়েছে দুদক। আসলে কোন আইনজীবীই তার পক্ষে কোন আবেদন করেনি।
বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘বেনজীর নজিরবিহীন, এখন এই যে দুর্নীতি দমন কমিশনে কথিত একটা চিঠি পাঠিয়েছে একজন আইনজীবী। আদৌও কি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোনো আইনজীবীর নাম কি কেউ বলেছে। কি গ্রাউন্ডে তার সময় চেয়েছে, কেউ কি কিছু বলেছে।’
দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘ব্যক্তি যখন নির্দিষ্ট সময়ে আসতে পারে না। তখন সে সময়ের জন্য আবেদন করতে পারে, অথবা কোনো আবেদন ছাড়াও দুদক ইচ্ছে করলে ১৫ দিন সময় বাড়াতে পারে। এরপরে সে আর বাড়াতে পারে না।’
গত ২৩ মে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের সব ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) এবং গোপালগঞ্জ ও কক্সবাজারের তাঁর ৮৩টি দলিলের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। আর ২৬ মে বেনজীরের স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিস্তা বিনতে বেনজীর এবং ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে থাকা বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোম্পানির আংশিক শেয়ার ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুদক বলছে, গণমাধ্যমে অবৈধ সম্পদের খবর প্রকাশের পর থেকেই সম্পদ রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠে বেনজীর। এ সময় নিজেদের শতাধিক ব্যাংক হিসাবও বন্ধ করে দেন তিনি। একে একে ৫০টি এফডিআর ভেঙে নগদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা তুলে নেন বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া ব্যাংকের হিসাবে থাকা আরও কয়েক কোটি টাকা এ সময় তুলে নেওয়া হয়।
গত ৬ মে বেনজীর আহমেদকে দুদকে তলব করেছিল দুদক। এর একদিন আগে দেওয়া এক আবেদনে হাজির হতে সময় চান সাবেক পুলিশ প্রধান। পরে তাকে ২৩ জুন হাজির হতে নতুন সময় নির্ধারণ করে দুদক।
এখন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ১০ জেলায় বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২ হাজার ৩৮৫ বিঘা বা ৭৮৬ একর জমি থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি জেলাগুলো হলো গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, বান্দরবান ও কক্সবাজার। এসব জেলায় রয়েছে জমি, খামার, রিসোর্ট। সেন্ট মার্টিন দ্বীপেও আছে জমি।