কোটা আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা খোলা: প্রধান বিচারপতি 

কোটা আন্দোলনকারীদের জন্য আদালতের দরজা সব সময় খোলা বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের নেতাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন তিনি। 

এসময় প্রধান বিচারপতি কোটা নিয়ে যারা আন্দোলন করছেন তাঁরা কেন নির্বাহী বিভাগের কথা বলে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, নির্বাহী বিভাগের যেকোনো সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পরে তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিগুলো আইনজীবীদের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারেন। আদালত সেটি গুরুত্ব সহকারে শুনবে। 

একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে কোটা আন্দোলনকারীদের বোঝানোর পরামর্শ দেন। পরে তিনি বলেন, দুর্নীতি দুর্নীতিই। তা প্রধান বিচারপতি করুক কিংবা পিয়ন যেই করুক না কেনো দূর করতে হবে। 

এদিকে কোটা সংস্কারের দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সারা দেশে আবারও ব্লকেড চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। 

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। এতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটাও বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। 

পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে। 

বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে। 

বুধবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ঝুলন্ত কোনো সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না। 

আরও পড়ুন: