ব্লকেড কর্মসূচির নামে কেউ রাস্তা বন্ধ করলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি

আদালতের আদেশের পরও ব্লকেডের নামে কেউ রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, ‘গত ১০ দিনে একজন স্টুডেন্টও পুলিশের আচরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেনি। কিন্তু এখন যদি রাস্তা বন্ধ হয়, তাহলে প্রচলিত আইন কার্যকর হবে। গত ১০ দিন যে সম্মানবোধ আমরা তাদের প্রতি দেখিয়েছি, আমাদের বিশ্বাস তারাও দেশের আইনের প্রতি সে বিশ্বাসটুকু রাখবে এবং সম্মান দেখাবে। তবে আদালতের আদেশের পরও যদি কেউ ব্লকেড কর্মসূচির নামে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে তবে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি।’

এসময় তিনি নগরবাসীর নিরাপত্তা এবং চলাচলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাসহ সকলের যেকোনো অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কোটা আন্দোলনকারীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানান। 

খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘গত কয়েকদিন থেকে বৈষম্য বিরোধী কোটা বাতিল নামের ব্যানারে একটি আন্দোলন চলে আসছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা গত ৬ জুলাই থেকে সারা দেশে বাংলা ব্লকেড নামে কর্মসূচি পালন করে আসছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায়ও তাদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং কোথাও যেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিস বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। যেকোনো প্রোগ্রামের ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যশীল। অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে আমরা এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি।’

ভিডিও দেখুন:

‘যে বিষয়টির ওপর ভিত্তি করে আন্দোলন সেই ব্যাপারে আপিল বিভাগ বুধবার একটি আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল সেটা বাতিলের হাইকোর্টের রায়ের ওপর ৪ সপ্তাহের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আন্দোলন করার আর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মনে করে না। মনে রাখতে হবে আমাদের দেশের প্রচলিত আইন, আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে আমরা বাধ্য।’

আরও পড়ুন: