৭ ঘণ্টা পর মোবাইল ইন্টারনেটে ফেসবুক-মেসেঞ্জার চালু, বন্ধ টেলিগ্রাম

বন্ধের ৭ ঘণ্টা পর মোবাইল ইন্টারনেটে ফেসবুক ও মেসেঞ্জার অ্যাপ চালু করা হয়েছে। তবে এখনো বন্ধ রয়েছে টেলিগ্রাম। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার পর ফেসবুকের ক্যাশ সার্ভারগুলো ফের সচল করে দেওয়া হয়।

মোবাইল অপারেটররা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আজ দুপুর ১টার দিকে অনেক ব্যবহারকারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফেসবুকে ঢুকতে সমস্যার মুখে পড়ার কথা জানান। তারা ম্যাসেঞ্জার ও টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করতে না পারার কথাও বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষে নিহতদের বিচার দাবিতে আজ শুক্রবার গণমিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচিকে ঘিরে দুপুর ১২টার পর থেকে মোবাইল ইন্টারনেটে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও রাশিয়াভিত্তিক মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম বন্ধ করা হয়।

সন্ধ্যার পর ফেসবুক ও মেসেঞ্জার চালু হলেও টেলিগ্রামের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এর আগে গত ১৭ জুলাই রাত ৯টা থেকে ২৩ জুলাই দুপুর পর্যন্ত সারাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ ছিল। ২৩ জুলাই বেলা ২টার পর থেকে সেগুলো চালু হয়। 

রাজধানীসহ সারা দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা শুরু হলে গত ১৭ জুলাই রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট এবং ১৮ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ দিন পর ২৩ জুলাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হয়। আর ১০ দিন পর ২৮ জুলাই মোবাইল ইন্টারনেট চালু করে সরকার। এ সময় ব্রডব্যান্ড সংযোগে ইউটিউব চালু থাকলেও মোবাইল ডেটায় তা বন্ধ ছিল। সঙ্গে বন্ধ ছিল ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক।

দেশে ১২ কোটির বেশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় ফেসবুকের ভূমিকার কথা বলেছিলেন। ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে এসব প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে চিঠিও দিয়েছিলেন তিনি। এ বিষয়ে ৩১ জুলাই ফেসবুকের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া ইউটিউব ই–মেইলে ব্যাখ্যা দেয়। টিকটক প্রতিনিধি একই দিন হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। এরপর এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুলে দিয়েছিল সরকার।