দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১০ জেলায় বন্যা হতে পারে এমন কোনো পূর্বাভাস না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা। শুক্রবার সচিবালয়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত সচিব জানান, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ৩ হাজার ১৬০টি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার জন মানুষ।
বন্যা নিয়ে আগাম কোনো সতর্কতা ছিল কিনা জানতে চাইলে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এসব জিনিস ব্যবস্থাপনা করে থাকি। কিন্তু পূর্বাভাস বা আগাম জানার যে বিষয়টা এটা আসলে আমাদের জানা থাকে না। আমাদের যেটা প্রস্তুতি ছিল, প্রত্যেক জেলাতে আমরা আপদকালীন একটি মজুদ রেখে দিই।’
কে এম আলী রেজা বলেন, ‘পূর্বাভাস আমাদের কাছে সেভাবে আসেনি। এটা বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র ও আবহাওয়া অধিদপ্তর করে।’
পূর্বাভাস না পেলেও বন্যার শুরু থেকে দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার কথা জানান তিনি। অতিরিক্ত সচিব জানান, বন্যাকবলীয় এলাকায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
কে এম আলী রেজা বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই। যখন থেকেই বন্যা শুরু হয়েছে তখন থেকেই আমরা মানুষদের সরিয়ে নিয়েছি। আপনারা জানেন যে, মানুষের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েছে যে নিজস্ব আবাসস্থল তারা ছাড়তে চান না। আমার যেটা অভিজ্ঞতা যখন বন্যা শুরু হয়ে গিয়েছে তখনও তারা জায়গা ছাড়তে চান নি। একেবারেই যখন না ছাড়লেই নয়, তখন তারা ছেড়েছেন। আমরা প্রথম থেকেই কাজ শুরু করেছিলাম। ১৯ আগস্টের আগে থেকেই আমরা বলা চলে যে অন গ্রাইন্ডে ছিলাম।’
বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ হয়ে উঠছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। ১০ জেলায় বন্যাকবলিত অন্তত ৪২ লাখ মানুষ। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অনেকেই ঘর থেকে কিছু বের করতে না পেরে খালি হাতে ছুটে এসেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। দুর্গত এলাকায় এখন দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।
স্থানীয়রা বলছে, স্মরণকালে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি তারা। দুর্গত এলাকাগুলো সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে ভারত সরকার বলছে, বাংলাদেশের বন্যা গোমতির নদীর ওপর নির্মিত ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গোমতী নদীর ক্যাচমেন্ট এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এই বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশে বন্যা মূলত বাঁধের নিচের দিকের এই বৃহৎ ক্যাচমেন্টের পানির কারণে।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবারের বর্ষায় বৃষ্টিপাত বেশি হতে পারে বলে আগেই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বৃহস্পতিবার ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতের পুনে শহরে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট আউটলুক ফোরামের ২৮তম অধিবেশনে বলা হয়েছিল, এবারের বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের বৃষ্টি যেমন বেশি হবে, তেমনি বাংলাদেশের উজানে ভারতের রাজ্যগুলোতেও বৃষ্টি বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।