সুন্দরবনে তৃতীয় দফায় বাঘ গণনা শেষ। জরিপের ফল আগামীকাল মঙ্গলবার প্রকাশ করবে বন মন্ত্রণালয়। এ দফায় বাদাবনজুড়ে প্রায় দুই বছর ধরে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ে গোনা হয়েছে বাঘ। ব্যবহার হয়েছে ১ হাজার ২০০-এর বেশি ক্যামেরা। এতে সুন্দরবনে পূর্বাংশে বাঘ বাড়ার তথ্য মিলেছে।
জোয়ার ভাটার এই বনে রাজত্ব বেঙ্গল টাইগারের। এক সময় দেশের অন্যান্য বনে দেখা গেলেও এখন শেষ আশ্রয় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটারের এই বাদাবন। তবে এখানেও আছে চোরা শিকারি ও খাবার সংকট।
২০১৫ সালের জরিপে ১০৬ আর ২০১৮ সালের জরিপে এখানে বাঘ ছিল ১১৪টি। তৃতীয় ধাপে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাকে ৪ জোনে ভাগে হয়েছে জরিপ। তাতে বাঘ বাড়ার তথ্য মিলেছে। প্রতি দুই কিলোমিটারে পায়ের ছাপ দেখে হয়েছে গণনা। ১ হাজার ২০০-এর বেশি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ নিরূপণ হয়েছে সংখ্যা।
বাঘ জরিপ কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক আবু নাসের বলেন, বনদস্যু ও জলদস্যু বিতরণের পরে প্রচুর বাঘের বাচ্চার ছবি পেয়েছি। আমরা এবার চাঁদপাই, শরণখোলা এবং খুলনা ও সাতক্ষীরাতে প্রচুর বাঘের বাচ্চার ছবি পেয়েছি।
এদিকে, জরিপ দলের প্রধান বলছেন, সুন্দরবন জলদস্যু মুক্ত হওয়ায় বাঘ হত্যা কমেছে। এতে বেড়েছে প্রজনন। তবে এদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠনের পরামর্শ তাঁর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ বলেন, ‘ডাকাত বিলুপ্ত হওয়ার পরে যে অর্জন সেটার প্রতিফলন আমরা আমাদের সবশেষ জরিপে দেখতে পেয়েছি। এই নাজুক পরিস্থিতিতে যদি আবার সুন্দর বনে ডাকাতের আস্তানা গড়ে ওঠে তাহলে যে আশাবাদ আমরা দেখছি তা আবার হারিয়ে যাবে। দেশের যেকোনো বাহিনী থেকে কিছু সদস্য নিয়ে বাঘের নিরাপত্তায় একটা বিশেষ বাহিনী করা যেতে পারে।’
গবেষকরা বলছেন, সুন্দরবনের জলাধারে বিষ দিয়ে মাছধরা বন্ধ করা জরুরি। এতে বাঘ, হরিণসহ অন্যান্য প্রাণীর জীবন হুমকিতে পড়ছে।