বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের পেছনে দাঁড় করিয়ে ফটোসেশনের ব্যাখ্যা দিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ওই ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর আজ রোববার রাতে এক পোস্টে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।
উপদেষ্টা সরয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণীজনদের গ্রুপ ফটো সেশন নিয়ে গতকাল থেকে নানারকম আলোচনা হচ্ছে। আপনারা সবাই জানেন সরকার বা পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে স্টেজেই পুরস্কারপ্রাপ্তদের গ্রুপ ফটো সেশনের একটা রেয়াজ চালু আছে। কিন্তু আমরা তো সংস্কার করতে আসা সরকার। আমাদের কেন রেয়াজ মানতে হবে?’
তিনি লিখেছেন, ‘আজকে আমাদের মন্ত্রণালয়ে এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি গ্রুপ ফটো সেশনের এই রেয়াজ এ বছরের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান থেকে আর রাখা হবে না। গ্রুপ ফটো সেশন কোথায় কীভাবে হবে এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘ছয়মাস হইলো আমরা একটা খুনী-সাইকোপ্যাথের হাত থেকে মুক্তি পাইছি। জাস্ট ছয় মাস! যে খুনী শত শত মানুষকে গুম করিয়েছে, হাজার হাজার বিরোধী মতের মানুষকে খুন করিয়েছে, জুলাইতে একটা নারকীয় গণহত্যা চালিয়েছে, ইলিয়াস আলিকে গুমের পর হত্যা করে তার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে নাটক করেছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করিয়ে মানুষ মেরেছে- তার সাথে শিষ্টাচার? হিটলারের সাথে শিষ্টাচার? আর ইউ সিরিয়াস? সালাম দিয়ে বলতে হবে, প্রিয় খুনী, আপনি আমার প্রণাম গ্রহন করুন? ’
এরআগে গতকাল শনিবার বিকেলে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাতজনের হাতে এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সে সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এক পর্যায়ে অতিথিদের পেছনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের দাঁড় করিয়ে ফটোসেশন করা হয়।
এবার প্রবন্ধ/গদ্যে পুরস্কার পাওয়া লেখক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খানও ছিলেন পেছনে দাঁড়ানো পুরস্কারপ্রাপ্তদের কাতারে। ওই ছবি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয় ফেসবুকে। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে রোববার জাতীয় কবিতা পরিষদের এক অনুষ্ঠানে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সলিমুল্লাহ খান নিজেও।