জুলাই অভ্যুত্থানে রংপুরে নিহত আবু সাঈদ হত্যার সবকটি মামলা যাতে সঠিক বিচারিক প্রক্রিয়ায় সমাধানে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আজ রোববার বিকেলে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ষাটের দশকে ড. শামসুজ্জোহা যেমন স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, ঠিক তেমনি বহু বছর পরে সেটারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে জুলাই ২৪ এ আবু সাঈদের সুপ্রিম সেক্রিফাইসের মাধ্যমে। যে কারণে আবু সাঈদকে সারাজীবন শ্রদ্ধার সাথে বাঙালি জাতি স্মরণ করবে।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘আবু সাঈদের কয়েকটি মামলা এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে চলছে। সেটা যাতে সঠিক প্রক্রিয়ায় একটা সমাধানে পৌঁছায়, সবাই যাতে ন্যায় বিচার পায় সেদিকে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করে সেটাকে ব্যাঘাত ঘটানো উচিত হবে না। আমি যেটা মনে করি, বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে, চলমান আছে, এটার সুষ্ঠু বিচার হোক। এটা আমিও চাই এবং আমার যতটুকু সম্ভব, আমি দেখব যেন তাই হয়।’
এ সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথেও কথা বলেন প্রধান বিচারপতি। পরে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রংপুর জেলা আদালত পরিদর্শন করেন প্রধান বিচারপতি। পাঁচ দিনের সফরে এসে আদালত পরিদর্শনের সময় রংপুর মেট্রোপলিটন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকদের সাথে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরে প্রধান বিচারপতি ১০ তলা জুডিশিয়াল ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জেলা আদালতের সামনে রংপুরের সুস্বাদু ও আশ বিহীন হাড়িঁভাঙ্গা আমের একটি চারা রোপণ করেন। এ ছাড়া জেলা জজ আদালতের বিভিন্ন বিচারকের এজলাসসহ রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত এবং মেট্রোপলিটন ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পরিদর্শন করেন এবং সেখানেও একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির, মহানগর দায়রা জজ মশিয়ার রহমান খান, তারিক হোসেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আর কিউ এম জুলকার নাইন, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের বিচারকেরা, সকল জুডিশিয়াল ও মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট এবং ল্যান্ড সার্ভে বিচারকেরা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের ছোড়া গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। তাঁর হত্যার তদন্ত কাজ চলছে। গত ৪ এপ্রিল ৫ দিনের সফরে রংপুরে আসেন প্রধান বিচারপতি। আগামী ৮ এপ্রিল রংপুর ত্যাগ করবেন বলে সরকারি সূচি অনুযায়ী জানা গেছে।