ক্লাসরুমে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় উড়োজাহাজটি

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের ক্লাসরুমে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় প্রশিক্ষণ বিমানটি। সাথে সাথে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাড়তে থাকে হতাহতের সংখ্যা। পরে দেয়াল ও জানালা ভেঙে চালানো হয় উদ্ধার তৎপরতা।

সোমবার দুপুর। রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে আছড়ে পড়ে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই।

বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় বিমানটি। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘জানালা ভেঙেছি এবং ওয়ালটাও ভেঙেছি। এরপর বিমানের সঙ্গে চারটা লাশ একদম মিশে গেছে। বিমানটা রুমের ভেতরে ছিল।’

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিমানটি হঠাৎ নিচে নেমে এসে ওই ভবনে আছড়ে পড়ে। এরপর শুধুই আগুন। এতে ঝলসে যায় ভেতরে থাকা ছাত্র-ছাত্রীরা।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাশে সেনা ক্যাম্প থাকায় ওরা দ্রুত গিয়ে এক পাশের গ্রিল খুলে ফেলেছে। ওদেরও (আহত-নিহত) ক্লাস চলছিল, আমাদেরও চলছিল। সেনাবাহিনী গ্রিল খুলে অনেককে বের করে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ভবনের জানালা ও দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকেন অনেকে। দেখতে পান ভয়াবহ পরিস্থিতি।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমার মেয়ে বের হয়েছে। হোস্টেল সুপার বলেছে যে হোস্টেলে নিয়ে গেছে। পরে আমি জানতে পারলাম ওদেরকে হোস্টেলে নেওয়া হয়নি। অ্যাকাডেমিক ভবনের নিচে তাদের রেখেছিল।’

আরেকজন অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে সেভেনে পড়ে। ওকে পাচ্ছি না। ফোন দিচ্ছি, ধরছে না। তখন বলেছিল, টিচারদের সাথে আছি। এরপর আর কিছু বলতে পারেনি। লাইন কেটে দিয়েছে।’

উদ্ধার তৎপরতা দেখতে ঘটনাস্থলে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি জানান, দগ্ধ ও আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘পরিস্থিতি পুরো নিয়ন্ত্রণে আছে। যারা আহত বা নিহত হয়েছে তাদেরকে ইতিমধ্যে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়ে মাইলস্টোন কলেজে ছুটে যান উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। কান্না নিয়েই খুঁজতে থাকেন সন্তানদের। কেউ কেউ ভিড় করেন বিভিন্ন হাসপাতালে।