বাদী-বিবাদী সমঝোতা করে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় খালাস পান বিপুল সংখ্যক হত্যা মামলার আসামি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বলছে, দুই পক্ষের সমঝোতা ছাড়াও ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত ও ময়নাতদন্ত, ম্যাজিস্ট্রেটের ভুল এবং দীর্ঘ সময় মামলা চলায় ছাড়া পান ৫২ শতাংশ আসামি। ২৩৮টি হত্যা মামলা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক একটি মামলার বিচারে গড়ে সময় লেগেছে ১০ বছর ১১ মাস।
২০১৫-২০১৬ সালে রায় হওয়া ২৩৮টি হত্যা মামলার ওপর গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশ করেছে পিবিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩৮টি হত্যা মামলার মধ্যে ১২৩টিতেই খালাস পান আসামিরা। এসব মামলার বিচারে গড়ে সময় লেগেছে ১০ বছর ১১ মাস। বিচার শেষ হয়েছে সর্বনিম্ন ২ মাসে এবং সর্বোচ্চ ৩০ বছর লেগেছে। আর তদন্তে পুলিশ সময় নিয়েছে গড়ে ১ বছর ৪ মাস।
পিবিআইয়ের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) আবু ইউসুফ, আসামি মারা যায়, নাহলে ভুক্তভোগী মারা যায়। সাক্ষীরা অন্যদিকে প্রভাবিত হয়ে যায়, বিচারের আশা থাকে না, কোর্টে যাতায়াতের যে আগ্রহ সেটা থাকে না—এসব নানা কারণে খালাস পেয়ে যাচ্ছেন আসামিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালাস পাওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ৪৭টিতে বাদী-বিবাদীদের সমঝোতা হয়েছিল। আরও ৩২টি মামলায় সমঝোতার পাশাপাশি তদন্তে ত্রুটির কারণে ছাড়া পান আসামিরা। সব মিলিয়ে ৬৪ শতাংশ খালাসই হয় বাদী-বিবাদী সমঝোতায়। খুনের মামলায় সমঝোতার আইনগত সুযোগ নেই। তবে আদালতে বাদী ও সাক্ষীরা মিথ্যা সাক্ষ্য দিলে খালাস পেয়ে যান আসামি।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘সঠিক বিচার যদি চাই, তাহলে সাক্ষী-বাদী আর আসামির বোঝাপড়া হয় কীভাবে। বাদীপক্ষই বিচার চাচ্ছে না। খুনের মামলা যদি হয়, সেটা বিচারে দীর্ঘসূত্রিতার কোনো কারণ দেখি না। একটা আছে, সাক্ষী পায় না। সেটা সরকারি সাক্ষীতে।’
দেশে প্রতিবছর গড়ে ৩ হাজার ৮০০ জন হত্যার শিকার হয়। সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধেই সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড। এছাড়া মাদক, জুয়া, আর্থিক লেনদেন, ডাকাতি-ছিনতাই ও রাজনৈতিক বিরোধে হত্যা হয়।