বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া খবর, যা বলছেন এই ভারতীয় বিশ্লেষক

ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক খবরগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এসব ভুয়া খবর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে, যা ভারতের জন্যই ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শ্রী রাধা দত্ত। এদিকে, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন খবর দেওয়ার এই প্রবণতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দিল্লির স্পষ্ট প্রভাব ফুটে ওঠার ইঙ্গিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের মনোভাব যুদ্ধংদেহি। তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়।

ভারতের গণমাধ্যমেও এই বাংলাদেশ-বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট। প্রতিবেদনের ভাষা, উপস্থাপনা এবং তথ্য যাচাই না করেই তা প্রকাশ নিয়মিত হয়ে ওঠে ভারতের এক শ্রেণির গণমাধ্যমে।

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যম জেটিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ভুয়া খবর ছড়ানোয় ভারত যথেষ্ট সিদ্ধহস্ত।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক খবর ভিত্তিহীন। যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে। যা ভারতের জন্যই ক্ষতি বলে দাবি দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. শ্রী রাধা দত্তের।

ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির এই অধ্যাপক ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, ‘নানা ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মিডিয়া, কেন করেছে এটার কোনো ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে। বাংলাদেশকে যদি আমরা ওই চোখে দেখি, তাহলে নিশ্চয়ই সেটা ভুল চোখে দেখা হচ্ছে। এতে তো উল্টো আমাদেরই ক্ষতি হবে।’

গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী ভারতীয় গণমাধ্যমের আচরণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব ফুটে ওঠার ইঙ্গিত বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন সময় যাদের বেশি আগ্রহ আছে বাংলাদেশ নিয়ে তারা এ বিষয়গুলোতে ইনফ্লুয়েন্স করে। এটাকে কোনোভাবেই ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে। এটা যদি অন্য কোনো রাষ্ট্র দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে এটা কোনোভাবেই কল্যাণকর হতে পারে না।’

গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধির প্রমাণও পেয়েছে রিউমার স্ক্যানার।