গত এপ্রিলের কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে আকাশ যুদ্ধে জড়ায় প্রতিবেশি দুই দেশ। পাকিস্তান দাবি করে, চীনা জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান দিয়ে তারা ভারতের অত্যাধুনিক রাফায়েল ভূপাতিত করেছে। এরপর থেকেই যুদ্ধবিমান বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ ।
এবার বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে একই মডেলের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে। ৪.৫ প্রজন্মের জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান কেনা হবে চীন থেকে।
জে-১০ সিই হলো চীনের জে-১০-সি যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সংস্করণ। এটি একসাথে আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে মাটিতে হামলা চালাতে পারে। এর রাডার সিস্টেম, ইঞ্জিন এবং অস্ত্র বহন ক্ষমতা একে ৪.৫ প্রজন্মের শ্রেণিতে নিয়ে গেছে।
ইংরেজি দৈনিক - দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে ২২০ কোটি ডলার ব্যয়ে চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ।
বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো এফ–৭ বিমান দিয়ে প্রতিরক্ষা চালানো হচ্ছিল। নতুন এই জে-১০ সিই যুক্ত হলে বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা এক নতুন মাত্রা পাবে। চুক্তিটি হবে সরকার থেকে সরকার বা জিটুজি পদ্ধতিতে চীনের সঙ্গে সরাসরি।
প্রতিটি বিমানের আনুমানিক দাম ৬ কোটি ডলার। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২২০ কোটি ডলার।
দ্যা ওয়ার জোন- টিডব্লিউজেড ডট কমের তথ্য অনুযায়ী চীনের জে-১০-সি-ই যুদ্ধবিমানের দাম ৫ থেকে ৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০টি ফাইটার জেট কিনতে লাগবে ১০০ থেকে ১২০ কোটি ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হবে প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৭ হাজার ৬০ কোটি। এই কেনাকাটা বাস্তবায়ন হবে ২০২৫ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এবং পুরো অর্থ পরিশোধ করা হবে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে।
চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময় চীনের কাছ থেকে মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। ওই সময় চীন প্রস্তাবটিতে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলেও জানা গেছে।
এসব যুদ্ধবিমান কেনার জন্য আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি চূড়ান্ত করতে, গত এপ্রিলে বিমানবাহিনীর প্রধানকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
এই কমিটি চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে এসব যুদ্ধবিমানের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ, টার্মস অব পেমেন্ট, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, সংরক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ, এমনকি রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতিও যাচাই করবে। চূড়ান্ত আলোচনার পরেই মূল চুক্তি সই হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বহরে আছে ২১২টি এয়ারক্রাফট, এর মধ্যে ৪৪টি ফাইটার জেট। প্রধানত চীনের এফ–৭, রাশিয়ার মিগ–২৯ ও ইয়াক–১৩০ ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন জে-১০-সিই যুক্ত হলে বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।